তরুণদের ‘ককরোচ’ আন্দোলনে চাপে মোদি সরকার, বিজেপির নতুন চ্যালেঞ্জ
- আপডেট সময় : ০৪:১৩:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

ভারতের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের জন্য এক নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করেছে। বেকারত্ব, চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তরুণদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে এই আন্দোলনের জন্ম হয়। গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইনস্টাগ্রামে ব্যঙ্গাত্মকভাবে এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ছাত্র ও তরুণদের প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে।
টানা সাত সপ্তাহের তীব্র আন্দোলনের মুখে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু দিল্লির রাজপথেই নয়, ভারতের বিভিন্ন শহরে এই আন্দোলনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এতে বিভিন্ন জাতপাত, ধর্ম ও শ্রেণির তরুণরা অংশগ্রহণ করছেন। এমনকি বিজেপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত উচ্চবর্ণের হিন্দু তরুণদেরও এই আন্দোলনে শামিল হতে দেখা গেছে।
আন্দোলনের এই উত্তাল সময়ে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত তিনটি উপনির্বাচনের মধ্যে দুটিতেই বিজেপি পরাজয়ের মুখ দেখেছে। বিশেষ করে বিহারের ব্যাংকিপুর আসনে দলটির পরাজয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ আসনটি প্রায় তিন দশক ধরে বিজেপির দখলে ছিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
অবশ্য বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি এখনো ভারতে অত্যন্ত সংগঠিত ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দল, তাই উপনির্বাচনের ফল দেখে তাদের শক্তি কমে গেছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনই সমীচীন নয়। তবে এই আন্দোলন সরকারের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিজেপি তরুণদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ ও নতুন প্রচারণামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করলেও, অনেক ক্ষেত্রে তা উল্টো সমালোচনা ও হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে।
আন্দোলনকারীদের একাংশ স্পষ্ট করেছে যে, তাদের লক্ষ্য কেবল একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ নয়; বরং তারা কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জাতপাত, সাম্প্রদায়িকতা এবং নারীবিদ্বেষী রাজনীতির মতো মৌলিক বিষয়গুলোর পরিবর্তন চায়। বিশ্লেষকদের ধারণা, বিজেপি তার হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসার সম্ভাবনা কম এবং আগামী নির্বাচনে তারা ধর্মীয় পরিচয়কে আরও জোরালোভাবে সামনে আনার চেষ্টা করতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত যে, তরুণ সমাজের এই ক্ষোভ মোদি সরকারের সামনে এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে, যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।


























