ঢাকা ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লাইভ চলাকালে গুলিতে হত্যা, মেক্সিকোর ইনফ্লুয়েন্সারদের টার্গেট করছে কারা? আকাশ প্রতিরক্ষায় স্বনির্ভরতার পথে ভারত, সফলভাবে পরীক্ষিত কুশা ক্ষেপণাস্ত্র আজ প্রকাশিত হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের ফল, যেভাবে জানা যাবে মগবাজারে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা: চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যুতে নিহতের সংখ্যা ২ হালিশহরে মমতার গাড়িতে হামলা, চোর স্লোগান ও বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল ট্রাম্পের সঙ্গে বিপজ্জনক খেলায় মেতেছেন নেতানিয়াহু ইলিয়াস কাঞ্চনের বাসায় সুচন্দা ও চম্পা, আড্ডায় ফিরল সোনালি স্মৃতি শিশুশ্রম বন্ধে দারিদ্র্য বিমোচন ও শিক্ষার নিশ্চয়তা জরুরি শেয়ারবাজারের সংকট উত্তরণে জরুরি কাঠামোগত সংস্কার দেওবন্দ মাদ্রাসায় গঙ্গার পানি ছিটানোর ঘোষণা হিন্দুত্ববাদী দলের

আকাশ প্রতিরক্ষায় স্বনির্ভরতার পথে ভারত, সফলভাবে পরীক্ষিত কুশা ক্ষেপণাস্ত্র

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪১:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দীর্ঘপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা 'কুশা'-এর প্রথম সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। গত ২৩ জুলাই ওড়িশা উপকূলের ড. এপিজে আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে এই পরীক্ষা চালানো হয়। এই মাইলফলকটি ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সংঘাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কুশা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি রাশিয়ার এস-৪০০ ত্রিউম্ফের মতো আমদানিনির্ভর অস্ত্রব্যবস্থার ওপর ভারতের নির্ভরতা কমাবে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহে বিলম্ব ঘটায় ভারতের সামরিক প্রস্তুতিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা এই দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। বর্তমানে ভারতের হাতে থাকা চারটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন পুরো দেশের আকাশসীমা সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল রবি গোপাল কৃষ্ণ কাপুর জানান, কুশা দেশীয় ব্যবস্থা হওয়ায় এটিকে ভারতের বিদ্যমান আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে সহজেই সমন্বিত করা সম্ভব। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে এটি একটি বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে কুশা ব্যবস্থা চালু করা হবে। এই ব্যবস্থায় ১৫০, ২৫০ ও ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার তিনটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে, যার মধ্যে ২৩ জুলাইয়ের পরীক্ষায় ১৫০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছে।

ভারতের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, অপারেশন সিন্দুর-এর মতো অভিযানে এস-৪০০-এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। কুশা ব্যবস্থা এস-৪০০-এর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনা সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, এটি সীমিত আক্রমণাত্মক ভূমিকাও পালন করতে সক্ষম, যা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

জুন পর্যন্ত ভারত চারটি কার্যকর এস-৪০০ স্কোয়াড্রন পেয়েছে। ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৫ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তির আওতায় চলতি বছরের শেষ দিকে দেশটির পঞ্চম স্কোয়াড্রন পাওয়ার কথা রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

আকাশ প্রতিরক্ষায় স্বনির্ভরতার পথে ভারত, সফলভাবে পরীক্ষিত কুশা ক্ষেপণাস্ত্র

আপডেট সময় : ০৭:৪১:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
print news

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দীর্ঘপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা 'কুশা'-এর প্রথম সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। গত ২৩ জুলাই ওড়িশা উপকূলের ড. এপিজে আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে এই পরীক্ষা চালানো হয়। এই মাইলফলকটি ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সংঘাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কুশা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি রাশিয়ার এস-৪০০ ত্রিউম্ফের মতো আমদানিনির্ভর অস্ত্রব্যবস্থার ওপর ভারতের নির্ভরতা কমাবে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহে বিলম্ব ঘটায় ভারতের সামরিক প্রস্তুতিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা এই দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। বর্তমানে ভারতের হাতে থাকা চারটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন পুরো দেশের আকাশসীমা সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল রবি গোপাল কৃষ্ণ কাপুর জানান, কুশা দেশীয় ব্যবস্থা হওয়ায় এটিকে ভারতের বিদ্যমান আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে সহজেই সমন্বিত করা সম্ভব। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে এটি একটি বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে কুশা ব্যবস্থা চালু করা হবে। এই ব্যবস্থায় ১৫০, ২৫০ ও ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার তিনটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে, যার মধ্যে ২৩ জুলাইয়ের পরীক্ষায় ১৫০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছে।

ভারতের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, অপারেশন সিন্দুর-এর মতো অভিযানে এস-৪০০-এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। কুশা ব্যবস্থা এস-৪০০-এর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনা সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, এটি সীমিত আক্রমণাত্মক ভূমিকাও পালন করতে সক্ষম, যা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

জুন পর্যন্ত ভারত চারটি কার্যকর এস-৪০০ স্কোয়াড্রন পেয়েছে। ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৫ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তির আওতায় চলতি বছরের শেষ দিকে দেশটির পঞ্চম স্কোয়াড্রন পাওয়ার কথা রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor