মসজিদের মাইক অপসারণ বিতর্ক নিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে ৩ সাংসদের বৈঠক
- আপডেট সময় : ০৭:৫২:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

পশ্চিমবঙ্গের মসজিদগুলো থেকে লাউডস্পিকার বা মাইক অপসারণের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক এবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দরবারে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে তাঁর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত এনসিপিআইয়ের তিন সংখ্যালঘু সংসদ সদস্য আবু তাহের, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পাঠান। বৈঠকে তাঁরা অভিযোগ করেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংসদ সদস্যরা দাবি জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হলে তা যেন সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়। বৈঠক শেষে সাংসদ আবু তাহের গণমাধ্যমকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনে চলতে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তবে এই নিয়ম যেন শুধু মসজিদের পক্ষেই সীমাবদ্ধ না রেখে দুর্গাপূজা, কালীপূজা কিংবা অন্য যেকোনো ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রেও সমানভাবে কার্যকর করা হয়। একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে আলাদা করে টার্গেট করা হলে তা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে লাউডস্পিকার বিরোধী যে অভিযান চলছে, তা নিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তৈরি হওয়া গভীর উদ্বেগের বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আনেন সাংসদরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে অমিত শাহ তাঁদের সব বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে কলকাতার পর্ণশ্রী থানায় বেশ কয়েকটি মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিদের ডেকে লাউডস্পিকার অপসারণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এরপরই কলকাতা ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলাসহ রাজ্যের নানা প্রান্তে মসজিদ থেকে মাইক খুলে ফেলার খবর সামনে আসতে থাকে।
তবে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বিধিমালা মেনেই সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের মতো সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে যে, বাস্তবে কেবল মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপরই বেশি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই সংগঠনগুলোর নেতারা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিন সাংসদের এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



























