১২১ বছরের ইতিহাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড
- আপডেট সময় : ১০:৩৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণ কোরিয়া তার ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার সাক্ষী হয়েছে। ১৯০৪ সালে দেশটিতে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। তীব্র এই তাপপ্রবাহের মুখে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জনগণকে অবিলম্বে সব ধরনের বাইরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।
কোরিয়া মেটিওরোলজিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (কেএমএ) জানিয়েছে, রোববার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইয়াংসান শহরে ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১২১ বছরের আবহাওয়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ইয়াংসানে টানা পঞ্চম দিনের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে অবস্থান করছে। একই সময়ে ডেগু ও বুসানসহ বিভিন্ন শহরে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে।
চরম এই গরম থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিংমল, ক্যাফে ও বিভিন্ন ভবনে আশ্রয় নিচ্ছেন। সিউলের বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী জু ডং-ইওল বলেন, বাইরের পরিস্থিতি অসহনীয়। ঘর বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থান ছাড়া এখন আর কোনো উপায় নেই। রোববার দেশের ২০টিরও বেশি এলাকায় জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সরকার চলতি বছর এই নতুন সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে কোনো এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি বা প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকলে সতর্কতা জারি করা হয়।
কেএমএ জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণহীন ঘরের ভেতরে থাকাও এখন ঝুঁকিপূর্ণ। সবাইকে শীতল স্থানে আশ্রয় নেওয়া, প্রচুর পানি পান করা এবং বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে দক্ষিণ কোরিয়ায় তাপপ্রবাহের দিনের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১৯ দিনে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে সেটিকে তাপপ্রবাহের দিন ধরা হয়।
তীব্র গরমের প্রভাব ক্রীড়াঙ্গনেও পড়েছে। চ্যাংওন শহরে তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে পেশাদার বেসবল লিগের একটি ম্যাচ বাতিল করা হয়। তাপপ্রবাহের কারণে একই শহরে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচ বাতিল হলো। কোরিয়া বেসবল অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জলবায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো ঘন ঘন এবং তীব্র হচ্ছে। এছাড়া এল নিনো-র প্রত্যাবর্তন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।





























