জার্মানির বার্লিনে হামলাকারী সন্দেহভাজন যুবক পুলিশের গুলিতে নিহত

- আপডেট সময় : ১২:৫৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রাইড উৎসবের কাছে মিনিভ্যান ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো সন্দেহভাজন তরুণ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। নিহত ওই যুবকের নাম আব্দুল বি (২১)। হামলার একদিন পর গত রোববার বিকেলে বার্লিনের পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা স্পানদাউয়ের একটি বাগান বাড়ি কমপ্লেক্স থেকে তাকে শনাক্ত করার পর এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাকে শনাক্ত করলে সে ধারালো অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দিকে তেড়ে আসে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, গত শনিবার রাত ১০টার দিকে ব্রান্ডেনবার্গ গেটের নিকটবর্তী তিয়ারগার্টেন পার্কে বার্ষিক ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’ প্রাইড উৎসবের কাছে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়। অভিযুক্ত আব্দুল বি প্রথমে একটি মিনিভ্যান নিয়ে উৎসবের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং পরবর্তীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মানুষের ওপর চড়াও হয়। এই হামলায় একজন নিহত এবং ২৯ জন আহত হন।
জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার দোব্রিন্ড জানিয়েছেন, নিহত সন্দেহভাজন যুবক ২০০৫ সালে জার্মানিতে জন্মগ্রহণকারী লেবানিজ বংশোদ্ভূত একজন জার্মান নাগরিক। পূর্বেও একাধিক অপরাধে জড়িত থাকা, দ্রুত উগ্রবাদের দিকে ঝুঁকে পড়া এবং ইসলামপন্থী উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে সে আগে থেকেই নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজরদারিতে ছিল। গুরুতর সহিংসতা ও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজা ভোগের পর মাত্র দুই মাস আগে সে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিল।
এই ঘটনার পর জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎস সেন্ট মেরিজ চার্চে একটি স্মারক সভায় যোগ দেওয়ার আগে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং সন্ত্রাসবাদের কাছে মাথা নত না করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জার্মানি তার স্বাধীনতা, উন্মুক্ততা ও উদার সমাজব্যবস্থা রক্ষায় সম্ভাব্য সবকিছু করবে। অন্যদিকে, হামলার প্রতিবাদে এবং হতাহতদের স্মরণে ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটে হাজার হাজার মানুষ মোমবাতি ও রংধনু পতাকা হাতে নিয়ে নীরবতা ও শোক প্রকাশ করেন।
এই হামলার পর জার্মানির রাজনৈতিক মহলে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তীব্র হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশটিতে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ার কথা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চ্যান্সেলর মের্ৎসের সরকারের ওপর দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো এবং উগ্র ডানপন্থী দল ‘অলটারনেティブ ফর জার্মানি’ (এএফডি) দেশে ধর্মীয় চরমপন্থা নির্মূলে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।


























