সংঘাত শিথিলের আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

- আপডেট সময় : ১২:২১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের পাল্টাপাল্টি হামলার পর সপ্তাহান্তে সামরিক অভিযান স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের আশা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সোমবার লন্ডনের বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৯৬ ডলার বা ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯২ দশমিক ৮২ ডলারে নেমে এসেছে। দিনের শুরুর দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচেও নেমে গিয়েছিল।
টানা তিন সপ্তাহ ধরে তেলের দাম বাড়ার পর ব্রেন্ট ক্রুডসহ প্রধান প্রধান তেলের সূচকগুলো এখন প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত হরমুজ প্রণালি থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ওই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন হ্রাস পায় এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দেয়ায় বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের এশিয়ামুখী রপ্তানিও ব্যাহত হয়। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল।
তবে সম্প্রতি জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানান, কূটনৈতিক তৎপরতাকে সুযোগ দিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইএনজির বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নতুন করে কোনো সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়া বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রথম বাস্তব লক্ষণ। তাদের মতে, সোমবার তেলের দামের এই বড় পতন এটাই প্রমাণ করে যে বাজার ইতিবাচক সংবাদের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল।
অবশ্য হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে প্রতিদিন গড়ে ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে।




























