দিল্লিতে বিক্ষোভে ছররা গুলির অভিযোগ, অস্বীকার পুলিশের
- আপডেট সময় : ০৪:৫০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ সমাবেশে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের ছররা গুলি (পেলেট) ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি সরকারি হাসপাতালের মেডিকেল প্রতিবেদনে এক বিক্ষোভকারীর শরীরে ছররা গুলির আঘাতের প্রমাণ মেলার পর এই বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। তবে দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ২০ জুলাই নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করে সিজেপি। ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২৮ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারীকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের কেস শিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই যুবকের ডান কনুই ও পিঠে ‘পেলেটের আঘাত’ পাওয়া গেছে। আঘাতপ্রাপ্ত স্থানের চারপাশের চামড়া কালো হয়ে গেছে, সেখানে প্রচণ্ড ব্যথা রয়েছে এবং চামড়ার ভেতরে গুলির ধাতব টুকরো আটকে আছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, peaceful বিক্ষোভকারীদের ওপর পেলেট গান ব্যবহারের খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। সাধারণত পেলেট গান ও শক ব্যাটন ব্যবহার করে থাকে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) অধীনস্থ র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ)। ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি আরএএফ মোতায়েন ছিল। তবে এ বিষয়ে সিআরপিএফ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। উল্লেখ্য, ভারতে ২০১০ সালে কাশ্মীরে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে প্রথমবার পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে হিজবুল মুজাহিদিনের নেতা বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর বিক্ষোভ দমনেও এটি ব্যবহার করা হয়।
২০ জুলাইয়ের ওই বিক্ষোভে আরও কয়েকজন আন্দোলনকারী ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে সাহিল লোচাব নামে এক বিক্ষোভকারীর ডান চোখে পেলেটের আঘাত লেগেছে। তার চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে আরও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া হরিয়ানার গুরুগ্রামের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী শেখ মনসুরিও আহত হয়েছেন। তার মুখ, চোখ ও কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছররা গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান রেখে আগামী সপ্তাহে সংসদে একটি নতুন বিল আনা হবে। তবে এই আন্দোলনের তীব্রতা কমেনি। শুক্রবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে প্রথমে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং যারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীও একটি নিবন্ধে অভিযোগ করেছেন যে, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন দমনে কেন্দ্রীয় সরকার ‘কাপুরুষতা ও অকারণ নিষ্ঠুরতা’ প্রদর্শন করেছে।




























