জম্মু-কাশ্মিরে মেঘ ভাঙা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় ২৫ জনের মৃত্যু

- আপডেট সময় : ১০:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

জম্মু ও কাশ্মিরে গত শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি ও মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজৌরি, পুঞ্চ, কাঠুয়া, ডোডা, বাদগাম ও কুলগামসহ বিভিন্ন এলাকায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় ইতিমধ্যে শত শত বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে কাশ্মিরের সাথে ভারতের বাকি অংশের যোগাযোগের প্রধান মহাসড়কটিতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলমান গ্রীষ্মকালীন ছুটির মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বৃদ্ধি করেছে প্রশাসন। বুধবার সরকারের পক্ষ থেকে নতুন করে সতর্কতা জারি করে সাধারণ মানুষকে নদীর তীরের কাছাকাছি না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টির কারণে পীর পাঞ্জালের পার্বত্য এলাকার নদী ও পাহাড়ি ঝর্ণার পানি উপচে পড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। আবহাওয়া দপ্তর আগেই অঞ্চলটিতে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছিল। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজৌরি শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত দরহালি নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় একটি প্রতিরক্ষামূলক বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এর ফলে বন্যার পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করে ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। ওই এলাকা থেকে ইতিমধ্যে ৫০টিরও বেশি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বন্যার প্রভাবে কেবল রাজৌরি শহরই নয়, থামা মান্ডি, দরহাল এবং মঞ্জাকোটের মতো প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও ধস নেমেছে এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কাশ্মির উপত্যকার বুদগাম জেলার বেরওয়াহ তহসিলে বেশ কয়েকটি দোকান ও বেসরকারি কার্যালয় নিয়ে গঠিত একটি শপিং কমপ্লেক্স ধসে পড়েছে। তবে পুলিশ ও প্রশাসনের দূরদর্শিতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আগেভাগেই সরিয়ে নেওয়ার কারণে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী তিন দিন আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে।




























