ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০২৬ বিশ্বকাপে রেকর্ড ভাঙা-গড়ার নতুন ইতিহাস এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ নিয়ে নতুন তথ্য জানালেন বোর্ড চেয়ারম্যান জামায়াত এমপির পদত্যাগ দাবিতে শ্যামনগরে বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহ হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৮০০ ছাড়াল ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে আইনজীবীদের অনুমতি, সাবেক এমপি মনুসহ ৪ জনকে হাজিরের নির্দেশ ইরান যুদ্ধ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আটক বিক্ষোভকারীরা ছাড়া পেয়েই ফিরছেন যন্তর মন্তরের আন্দোলনে আলজেরিয়ায় দাবানলে ৬ জনের মৃত্যু, এখনও জ্বলছে আগুন ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় দেশে আনার নিয়ম সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ বছরেও শেষ হয়নি পাগলা নদীর সেতু, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা

আটক বিক্ষোভকারীরা ছাড়া পেয়েই ফিরছেন যন্তর মন্তরের আন্দোলনে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন চলছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনে সারা দেশ থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দিচ্ছেন। গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তর থেকে রাইসিনা মার্গ হয়ে লোকসভা ভবনের দিকে যাত্রা করলে দিল্লি পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পুলিশ বেধড়ক লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে অনেককে আটক করে। তবে লোকসভা অভিমুখে মিছিল থেকে আটক হওয়ার ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনেক বিক্ষোভকারী মুক্তি পেয়ে পুনরায় যন্তর মন্তরে ফিরে এসেছেন।

আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃষ্ণা, যিনি ভবিষ্যতে অধ্যাপক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তাকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কৃষ্ণা অভিযোগ করেন, আটকের সময় কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য তার চুল ধরে টানাহেঁচড়া করেছেন। তিনি বলেন, আগে তিনি ভাবতেন পুলিশ মানুষের সুরক্ষা দেয়, কিন্তু সোমবারের ঘটনার পর তার সেই ধারণা বদলে গেছে। তার মা ৩৮ বছর বয়সী সীমা যাদব জানান, অন্তত ২০ জন পুলিশ সদস্য তাকে ও তার মেয়েকে আটক করেন। এরপর তাদের আলাদা করে দেওয়া হয় এবং তাকে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, যার এক পর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। আলিগড় থেকে আসা এই মা ও মেয়ে গত পাঁচ দিন ধরে গুরুদুয়ারা বাংলা সাহিবে অবস্থান করছেন এবং বর্তমানে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছেন।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওপেন লার্নিংয়ের শিক্ষার্থী ২১ বছর বয়সী সমীর দোরওয়ালও আটকের শিকার হয়েছিলেন। তলস্তয় রোড থেকে আটক হওয়ার পর তাকে মন্দির মার্গ থানায় রাখা হয়। পাঁচ হাজার রুপির বন্ড জমা দিয়ে জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি সরাসরি যন্তর মন্তরে ফিরে আসেন। তাকে আগামী আগস্টে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। সমীর জানান, তিনি মা-বাবাকে বলেছিলেন যে বন্ধুর বাড়িতে থাকছেন, তাই আটকের বিষয়টি তারা জানেন না। তবে তিনি বাড়ি ফিরে আবার বিক্ষোভস্থলে আসার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা ভেতর থেকে পচে গেছে এবং এখন কিছু না করলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

আইপি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সিদ্ধার্থের কাছে আটকের অভিজ্ঞতা ছিল ভয়ের। তিন দিন ধরে যন্তর মন্তরে অবস্থান করা এই শিক্ষার্থী জানান, সোমবার পুলিশ তাকে আটক করলে তিনি খুব ভয় পেয়েছিলেন, তবে পুলিশ তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারই করেছে। তিনি মনে করেন, শিক্ষাই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে, তাই এ ইস্যুতে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়া জরুরি। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে যন্তর মন্তরজুড়ে উল্লাসধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে যখন সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ঘোষণা করেন যে সোমবার আটক হওয়া সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

আটক বিক্ষোভকারীরা ছাড়া পেয়েই ফিরছেন যন্তর মন্তরের আন্দোলনে

আপডেট সময় : ০৪:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
print news

শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন চলছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনে সারা দেশ থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দিচ্ছেন। গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তর থেকে রাইসিনা মার্গ হয়ে লোকসভা ভবনের দিকে যাত্রা করলে দিল্লি পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পুলিশ বেধড়ক লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে অনেককে আটক করে। তবে লোকসভা অভিমুখে মিছিল থেকে আটক হওয়ার ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনেক বিক্ষোভকারী মুক্তি পেয়ে পুনরায় যন্তর মন্তরে ফিরে এসেছেন।

আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃষ্ণা, যিনি ভবিষ্যতে অধ্যাপক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তাকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কৃষ্ণা অভিযোগ করেন, আটকের সময় কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য তার চুল ধরে টানাহেঁচড়া করেছেন। তিনি বলেন, আগে তিনি ভাবতেন পুলিশ মানুষের সুরক্ষা দেয়, কিন্তু সোমবারের ঘটনার পর তার সেই ধারণা বদলে গেছে। তার মা ৩৮ বছর বয়সী সীমা যাদব জানান, অন্তত ২০ জন পুলিশ সদস্য তাকে ও তার মেয়েকে আটক করেন। এরপর তাদের আলাদা করে দেওয়া হয় এবং তাকে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, যার এক পর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। আলিগড় থেকে আসা এই মা ও মেয়ে গত পাঁচ দিন ধরে গুরুদুয়ারা বাংলা সাহিবে অবস্থান করছেন এবং বর্তমানে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছেন।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওপেন লার্নিংয়ের শিক্ষার্থী ২১ বছর বয়সী সমীর দোরওয়ালও আটকের শিকার হয়েছিলেন। তলস্তয় রোড থেকে আটক হওয়ার পর তাকে মন্দির মার্গ থানায় রাখা হয়। পাঁচ হাজার রুপির বন্ড জমা দিয়ে জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি সরাসরি যন্তর মন্তরে ফিরে আসেন। তাকে আগামী আগস্টে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। সমীর জানান, তিনি মা-বাবাকে বলেছিলেন যে বন্ধুর বাড়িতে থাকছেন, তাই আটকের বিষয়টি তারা জানেন না। তবে তিনি বাড়ি ফিরে আবার বিক্ষোভস্থলে আসার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা ভেতর থেকে পচে গেছে এবং এখন কিছু না করলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

আইপি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সিদ্ধার্থের কাছে আটকের অভিজ্ঞতা ছিল ভয়ের। তিন দিন ধরে যন্তর মন্তরে অবস্থান করা এই শিক্ষার্থী জানান, সোমবার পুলিশ তাকে আটক করলে তিনি খুব ভয় পেয়েছিলেন, তবে পুলিশ তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারই করেছে। তিনি মনে করেন, শিক্ষাই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে, তাই এ ইস্যুতে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়া জরুরি। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে যন্তর মন্তরজুড়ে উল্লাসধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে যখন সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ঘোষণা করেন যে সোমবার আটক হওয়া সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo