

শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন চলছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনে সারা দেশ থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দিচ্ছেন। গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তর থেকে রাইসিনা মার্গ হয়ে লোকসভা ভবনের দিকে যাত্রা করলে দিল্লি পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পুলিশ বেধড়ক লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে অনেককে আটক করে। তবে লোকসভা অভিমুখে মিছিল থেকে আটক হওয়ার ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনেক বিক্ষোভকারী মুক্তি পেয়ে পুনরায় যন্তর মন্তরে ফিরে এসেছেন।
আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃষ্ণা, যিনি ভবিষ্যতে অধ্যাপক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তাকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কৃষ্ণা অভিযোগ করেন, আটকের সময় কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য তার চুল ধরে টানাহেঁচড়া করেছেন। তিনি বলেন, আগে তিনি ভাবতেন পুলিশ মানুষের সুরক্ষা দেয়, কিন্তু সোমবারের ঘটনার পর তার সেই ধারণা বদলে গেছে। তার মা ৩৮ বছর বয়সী সীমা যাদব জানান, অন্তত ২০ জন পুলিশ সদস্য তাকে ও তার মেয়েকে আটক করেন। এরপর তাদের আলাদা করে দেওয়া হয় এবং তাকে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, যার এক পর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। আলিগড় থেকে আসা এই মা ও মেয়ে গত পাঁচ দিন ধরে গুরুদুয়ারা বাংলা সাহিবে অবস্থান করছেন এবং বর্তমানে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছেন।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওপেন লার্নিংয়ের শিক্ষার্থী ২১ বছর বয়সী সমীর দোরওয়ালও আটকের শিকার হয়েছিলেন। তলস্তয় রোড থেকে আটক হওয়ার পর তাকে মন্দির মার্গ থানায় রাখা হয়। পাঁচ হাজার রুপির বন্ড জমা দিয়ে জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি সরাসরি যন্তর মন্তরে ফিরে আসেন। তাকে আগামী আগস্টে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। সমীর জানান, তিনি মা-বাবাকে বলেছিলেন যে বন্ধুর বাড়িতে থাকছেন, তাই আটকের বিষয়টি তারা জানেন না। তবে তিনি বাড়ি ফিরে আবার বিক্ষোভস্থলে আসার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা ভেতর থেকে পচে গেছে এবং এখন কিছু না করলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
আইপি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সিদ্ধার্থের কাছে আটকের অভিজ্ঞতা ছিল ভয়ের। তিন দিন ধরে যন্তর মন্তরে অবস্থান করা এই শিক্ষার্থী জানান, সোমবার পুলিশ তাকে আটক করলে তিনি খুব ভয় পেয়েছিলেন, তবে পুলিশ তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারই করেছে। তিনি মনে করেন, শিক্ষাই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে, তাই এ ইস্যুতে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়া জরুরি। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে যন্তর মন্তরজুড়ে উল্লাসধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে যখন সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ঘোষণা করেন যে সোমবার আটক হওয়া সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২