‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে আইনজীবীদের অনুমতি, সাবেক এমপি মনুসহ ৪ জনকে হাজিরের নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) এবং ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি), যা ‘আয়নাঘর’ হিসেবে পরিচিত, পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সঙ্গে আসামিপক্ষের আইনজীবীদেরও অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ১৭ জনকে হত্যার মামলায় ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনুসহ চার আসামিকে আগামী ৩রা আগস্ট আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
জেআইসিতে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আসামিপক্ষের এক আইনজীবীর মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারকরা এই অনুমতি দেন। এর ফলে টিএফআই, জেআইসি এবং সংশ্লিষ্ট বন্দিশালা পরিদর্শনে ডিফেন্স আইনজীবীরা অংশ নিতে পারবেন।
আদেশের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু সাংবাদিকদের বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ায় উভয়পক্ষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ট্রাইব্যুনাল যদি মনে করে তবে এই পরিদর্শনে সাংবাদিকদের যুক্ত করলে স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এদিকে, মামলার ষষ্ঠ সাক্ষীর অসুস্থতার কারণে তাঁর জেরা পিছিয়ে গেছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পর ট্রাইব্যুনাল জেরার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে টিএফআই, জেআইসি এবং ডিবির গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল-১। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভিন্নমতাবলম্বীদের গোপন বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এই পরিদর্শনের প্রয়োজন বলে দাবি করে প্রসিকিউশন। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার বিচার চলছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ১৯ ও ২০শে জুলাই যাত্রাবাড়ীতে ১৭ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেছেন। আগামী ৩রা আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই চার আসামি হলেন— সাবেক এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান, সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম খান এবং যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশিদ মুন্না।
প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, তদন্তে এই চার আসামির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় তাদের আদালতে হাজির করার জন্য আবেদন করা হয়েছিল, যা শুনানি শেষে আদালত মঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ২০২৫ সালের ২১শে এপ্রিল রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।



























