ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন ছক পুতিনের, সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৯:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান বা যুদ্ধবিরতির কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। বরং সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জ্বালানি স্থাপনা ও বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তিনি যুদ্ধকে আরও তীব্র করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রয়টার্সের কাছে ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়ালেও পুতিন আপাতত সংঘাত প্রশমনের বদলে তা আরও বাড়ানোর দিকেই ঝুঁকছেন। নিয়মিত পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এমন একজন জানান, আগামী কয়েক মাসে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা খুবই বেশি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার দাবি করেছিলেন যে পুতিন যুদ্ধের অবসান চান এবং শান্তি চুক্তি মানুষের ধারণার চেয়েও কাছাকাছি। গত সপ্তাহে ট্রাম্প পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে পৃথকভাবে ফোনালাপ করেন এবং ন্যাটো সম্মেলনে জেলেনস্কির সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা করেন। তবে রয়টার্সের সূত্র বলছে, পুতিনের প্রধান লক্ষ্য এখনো ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চল পুরোপুরি দখল করা। এমনকি যারা বর্তমান ফ্রন্টলাইন ধরে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, এমন বেশ কয়েকজন উপদেষ্টাকেও পুতিন ভর্ৎসনা করেছেন বলে জানা গেছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়া শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য প্রস্তুত থাকলেও সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট সক্ষমতা তাদের রয়েছে। অন্যদিকে, জেলেনস্কির কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী পুতিন শান্তির জন্য নয় বরং যুদ্ধ সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যার লক্ষ্য ইউক্রেনের বাইরে ইউরোপের অন্য কোনো দেশ হতে পারে। পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ডনবাস দখলের জন্য রাশিয়াকে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ বা কনস্ক্রিপশন চালু করতে হতে পারে, যা পুতিনের জন্য রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত।

লন্ডনভিত্তিক থিংক ট্যাংক আরইউএসআই-এর সামরিক বিশ্লেষক জ্যাক ওয়াটলিং-এর মতে, রাশিয়া সরাসরি ন্যাটোর সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে না চাইলেও সীমিত হামলার মাধ্যমে জোটটির সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। রাশিয়ার কয়েকজন সামরিক বিশ্লেষক বাল্টিক অঞ্চলের ন্যাটো ঘাঁটি বা ইউরোপে ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র উৎপাদনকারী স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যেই বলছেন।

এদিকে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ রুশ নাগরিকদের ওপরও যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে। এক জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো পুতিনের জনসমর্থনে কিছুটা ভাটা পড়েছে। গত সপ্তাহে সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার জবাবে রাশিয়া সীমান্তবর্তী ইউক্রেনীয় এলাকা দখল করে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তুলবে। রাশিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আন্দ্রেই ইলনিতস্কি কোমেরসান্ত পত্রিকায় লিখেছেন, পরবর্তী পর্যায়ে ইউক্রেনের ৩০টি বড় শিল্পকারখানা, ইস্পাত কারখানা এবং ওডেসা বন্দরে হামলা হতে পারে। দিমিত্রি পেসকভ এ বিষয়ে বলেন, ইউরোপের ক্রমবর্ধমান সামরিকীকরণের বাস্তবতায় রাশিয়া নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য।

সিএসআইএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উভয় পক্ষ মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ সেনা নিহত, আহত বা নিখোঁজ হয়েছেন, যার মধ্যে ১৪ লাখই রুশ সেনা। ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনের ড্রোন প্রতিরোধের কারণে রাশিয়ার অগ্রগতি ধীর হয়ে পড়েছে। কস্তিয়ানতিনিভকা শহর দখলের দাবি পুতিন গত ৩ জুলাই করলেও ইউক্রেন তা প্রত্যাখ্যান করে। সব মিলিয়ে ডনবাস দখল এখন পুতিনের কাছে নীতিগত প্রশ্নে পরিণত হয়েছে এবং তিনি অন্তত একটি বড় বিজয় অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন ছক পুতিনের, সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৮:১৯:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
print news

ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান বা যুদ্ধবিরতির কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। বরং সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জ্বালানি স্থাপনা ও বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তিনি যুদ্ধকে আরও তীব্র করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রয়টার্সের কাছে ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়ালেও পুতিন আপাতত সংঘাত প্রশমনের বদলে তা আরও বাড়ানোর দিকেই ঝুঁকছেন। নিয়মিত পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এমন একজন জানান, আগামী কয়েক মাসে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা খুবই বেশি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার দাবি করেছিলেন যে পুতিন যুদ্ধের অবসান চান এবং শান্তি চুক্তি মানুষের ধারণার চেয়েও কাছাকাছি। গত সপ্তাহে ট্রাম্প পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে পৃথকভাবে ফোনালাপ করেন এবং ন্যাটো সম্মেলনে জেলেনস্কির সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা করেন। তবে রয়টার্সের সূত্র বলছে, পুতিনের প্রধান লক্ষ্য এখনো ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চল পুরোপুরি দখল করা। এমনকি যারা বর্তমান ফ্রন্টলাইন ধরে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, এমন বেশ কয়েকজন উপদেষ্টাকেও পুতিন ভর্ৎসনা করেছেন বলে জানা গেছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়া শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য প্রস্তুত থাকলেও সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট সক্ষমতা তাদের রয়েছে। অন্যদিকে, জেলেনস্কির কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী পুতিন শান্তির জন্য নয় বরং যুদ্ধ সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যার লক্ষ্য ইউক্রেনের বাইরে ইউরোপের অন্য কোনো দেশ হতে পারে। পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ডনবাস দখলের জন্য রাশিয়াকে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ বা কনস্ক্রিপশন চালু করতে হতে পারে, যা পুতিনের জন্য রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত।

লন্ডনভিত্তিক থিংক ট্যাংক আরইউএসআই-এর সামরিক বিশ্লেষক জ্যাক ওয়াটলিং-এর মতে, রাশিয়া সরাসরি ন্যাটোর সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে না চাইলেও সীমিত হামলার মাধ্যমে জোটটির সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। রাশিয়ার কয়েকজন সামরিক বিশ্লেষক বাল্টিক অঞ্চলের ন্যাটো ঘাঁটি বা ইউরোপে ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র উৎপাদনকারী স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যেই বলছেন।

এদিকে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ রুশ নাগরিকদের ওপরও যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে। এক জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো পুতিনের জনসমর্থনে কিছুটা ভাটা পড়েছে। গত সপ্তাহে সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার জবাবে রাশিয়া সীমান্তবর্তী ইউক্রেনীয় এলাকা দখল করে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তুলবে। রাশিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আন্দ্রেই ইলনিতস্কি কোমেরসান্ত পত্রিকায় লিখেছেন, পরবর্তী পর্যায়ে ইউক্রেনের ৩০টি বড় শিল্পকারখানা, ইস্পাত কারখানা এবং ওডেসা বন্দরে হামলা হতে পারে। দিমিত্রি পেসকভ এ বিষয়ে বলেন, ইউরোপের ক্রমবর্ধমান সামরিকীকরণের বাস্তবতায় রাশিয়া নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য।

সিএসআইএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উভয় পক্ষ মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ সেনা নিহত, আহত বা নিখোঁজ হয়েছেন, যার মধ্যে ১৪ লাখই রুশ সেনা। ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনের ড্রোন প্রতিরোধের কারণে রাশিয়ার অগ্রগতি ধীর হয়ে পড়েছে। কস্তিয়ানতিনিভকা শহর দখলের দাবি পুতিন গত ৩ জুলাই করলেও ইউক্রেন তা প্রত্যাখ্যান করে। সব মিলিয়ে ডনবাস দখল এখন পুতিনের কাছে নীতিগত প্রশ্নে পরিণত হয়েছে এবং তিনি অন্তত একটি বড় বিজয় অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন।