ওষুধের নতুন নীতিমালা বাতিল, ফিরল তিন দশক আগের নিয়ম
- আপডেট সময় : ১২:০৮:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা বাতিল করেছে। এর ফলে প্রায় তিন দশক আগের নিয়মে ফিরেছে দেশের ওষুধ ব্যবস্থাপনা। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ বাতিলের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারের ভাষ্যমতে, নতুন এই নীতিমালা প্রণয়নের সময় আইন অনুযায়ী জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়নি, যা বাধ্যতামূলক ছিল। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার নতুন এই তালিকা প্রকাশ করেছিল, যেখানে ২৯৭টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের পূর্বের তালিকায় ওষুধের সংখ্যা ছিল ১১৭টি; অর্থাৎ নতুন তালিকায় ১৮০টি ওষুধ বাড়তি যোগ করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি শুরু থেকেই এই নতুন তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির বিরোধিতা করে আসছিল। সংগঠনের দাবি ছিল, শিল্পের অংশীজনদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৩০ জুন তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানায়।
মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান বলেন, নতুন তালিকাটি অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এই বাতিলের ফলে ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই, কারণ বাজার প্রতিযোগিতামূলক।
তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সরকারি নজরদারি দুর্বল হলে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বাড়বে, যা দরিদ্রদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম নির্ধারণে সরকারি নজরদারি না থাকলে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণ কঠিনতর হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ পরামর্শ দিয়েছেন যে, ১৯৯৪ সালের তালিকায় থাকা অনেক ওষুধ বর্তমানে বাজারে নেই, তাই একটি যুগোপযোগী নতুন তালিকা প্রয়োজন। তিনি এমনভাবে দাম নির্ধারণের আহ্বান জানান যাতে রোগী ও কোম্পানি উভয়ই উপকৃত হয়। ডা. এম মুশতাক হোসেনের মতে, পুরো কাঠামো বাতিল না করে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশোধনী আনা যেত।
স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, আগের তালিকা পর্যালোচনা করে নতুন করে হালনাগাদ করা হবে। বর্তমানে ১৯৯৪ সালের ১১৭টি ওষুধের তালিকা বহাল থাকলেও তা বড় হবে নাকি ছোট হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এছাড়া ওষুধের দাম নির্ধারণের জন্য একটি নতুন কমিটি গঠন করা হবে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৯৯৪ সালের তালিকাভুক্ত অনেক ওষুধ বর্তমানে কোম্পানিগুলো উৎপাদন করে না, আবার অনেক ওষুধ ভিন্ন নামে বাজারে আসায় দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের জাতীয় তালিকা ওষুধ সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।





























