ইউরোপে দাবানলের ভয়াবহতা: ফ্রান্স ও স্পেনে নিরাপদ আশ্রয়ে তিন লাখ মানুষ

- আপডেট সময় : ১২:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ফ্রান্স ও স্পেনে দাবানলের পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, যা পুরো পশ্চিম ইউরোপজুড়ে একটি চরম সংকটের সৃষ্টি করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের ঐতিহাসিক বর্দো শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে দাবানল অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের সবচেয়ে কঠিন ও অভূতপূর্ব সংকট হিসেবে অভিহিত করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। শহরের মেয়র যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন।
এখন পর্যন্ত ফ্রান্স ও স্পেন মিলিয়ে প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্সে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার এবং স্পেনে ১ লাখের বেশি মানুষ রয়েছেন। ফ্রান্সের গ্যারন ও জিরোন্দ অঞ্চলে ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবা কর্মীরা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, অনিয়ন্ত্রিত বায়ুপ্রবাহের কারণে দাবানল নিজেই তার গতিপথ ও বাতাস তৈরি করছে, যা অনিশ্চিতভাবে বর্দো মহানগরের দিকে ধেয়ে আসছে। চলতি বছরে ফ্রান্সে ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
প্রতিবেশী দেশ স্পেনের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। রাজধানী মাদ্রিদের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত আভিলা এলাকার দাবানলটি স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে ৫০ হাজার হেক্টর জমি ভস্মীভূত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে চলতি বছর স্পেনে ১ লাখ ৭২ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ইতালি ও পর্তুগালেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে; বিশেষ করে ইতালির পুগলিয়া এবং বাসিলিকাটা অঞ্চল থেকে পর্যটক ও বাসিন্দাদের সমুদ্রপথে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যৌথ উদ্ধার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, গ্রিস ও ইতালি থেকে অগ্নিনির্বাপক বিমান, হেলিকপ্টার ও বিশেষ ফায়ারফোর্সের টিম ফ্রান্স ও স্পেনে পাঠানো হয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার ও বুধবার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ফারেনহাইট) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, তীব্র তাপদাহ ও দাবানলের পুনরাবৃত্তির পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ভূমিকা রয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন সতর্ক করেছে যে এই দাবানলের মৌসুম নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বাসিন্দাদের ঘরের জানালা বন্ধ রাখা, ঘরের বাইরে এফএফপি২ মাস্ক ব্যবহার এবং ভারী শারীরিক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।




























