ভেনিসে বক্তব্য দিয়ে তোপের মুখে ইরানি অভিনেত্রী লালেহ মারজবান
- আপডেট সময় : ১১:১০:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার গ্রহণের সময় ইরানের নারীদের অধিকার নিয়ে মন্তব্য করে দেশটির কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইরানি অভিনেত্রী লালেহ মারজবান। এবারের উৎসবে মোহসেন ঘারায়ি পরিচালিত ‘ফলিং হাউজ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ওরিজোন্তি বিভাগে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান তিনি। ছবিটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এমন একটি ইরানি পরিবারকে নিয়ে, যেখানে বাবা নারীদের বাড়ির ভেতরেই আটকে রাখেন।
পুরস্কার গ্রহণের মঞ্চে ফারসি ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে মারজবান তার এই অর্জন ইরানের নারীদের উৎসর্গ করেন। তিনি বলেন, তার দেশের নারীরা সামান্যতম স্বাধীনতার জন্যও বড় মূল্য পরিশোধ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের জনগণকে কঠিন সময়েও আশা না হারানোর আহ্বান জানান।
মারজবানের এই বক্তব্যের পরপরই ইরানে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। দেশটির সুপ্রিম কাউন্সিল অব দ্য কালচারাল রেভল্যুশন এক বিবৃতিতে দাবি করে, অভিনেত্রী তার বক্তব্যের মাধ্যমে ইরানি নারীদের একটি একপেশে ও পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও মারজবানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু হয়েছে। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংয়ের (আইআরআইবি) সাংবাদিক ও উপস্থাপক জাহরা চেখমাগি তাকে ‘ভণ্ড’ ও ‘ব্যক্তিস্বার্থপর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এছাড়া আইআরআইবি-ঘনিষ্ঠ অভিনেত্রী জিল্লা সাদেগি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন মারজবান পুরস্কারটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ইরানি শিশুদের উৎসর্গ করেননি।
এ বিষয়ে সরকারি টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে এক কোরআন বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন যে, মারজবান ‘শত্রুর দ্বারা প্রতারিত’ হয়েছেন। স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন পক্ষ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে মারজবানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
‘ফলিং হাউজ’ ছবিতে মারজবান এনসি চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে চরিত্রটি ইরান ছেড়ে তুরস্কে গিয়ে মডেলিং করতে চায়। এই আকাঙ্ক্ষার কারণে তার বাবা রশিদ তাকে ও পরিবারের অন্য নারীদের গৃহবন্দি করে রাখেন। ভেনিসে ছবিটির প্রদর্শনের সময় ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মারজবান বলেছিলেন, ইরানের নারীদের অভিন্ন লক্ষ্যে পৌঁছাতে ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতে হয়। তিনি আরও বলেন, আমি আমার ছোট্ট অংশটুকু করেছি এবং আশা করি আরও অনেকে অভিন্ন লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে আসবেন। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে ইরানে চলচ্চিত্রশিল্পী ও নারীদের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।





























