অভিনয়ে আজও তৃষ্ণার্ত দিলারা জামান, খুঁজছেন ভালো কাজের সুযোগ
- আপডেট সময় : ০২:০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বর্ষীয়ান অভিনেত্রী দিলারা জামান অভিনয়ের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ও ভালো কাজের আকাঙ্ক্ষা আজও অটুট রেখেছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতা আগের মতো সঙ্গ না দিলেও, অভিনয়ের প্রতি তার ভালোবাসা বিন্দুমাত্র কমেনি। চরিত্রকে কেবল মুখস্থ সংলাপে ফুটিয়ে তোলার বদলে নিজের অনুভূতি ও অস্তিত্বের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়াই একজন শিল্পীর আসল কাজ বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, যতক্ষণ না একজন শিল্পী কোনো চরিত্র বা সংলাপকে নিজের ভেতর ধারণ করতে পারছেন, ততক্ষণ তিনি পূর্ণাঙ্গ শিল্পী হয়ে উঠতে পারেন না।
ব্যক্তিজীবনে অভিনয়ের এই দর্শনের প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করেন দিলারা জামান। ঢাকায় নিজের কষ্টে কেনা ছোট বাসায় এখন তার আক্ষেপের জায়গা হলো পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব। সময়ের সঙ্গে চারপাশের খোলা জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা বহুতল ভবনের কারণে নিজের বাড়িতেও তিনি বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারেন না। তাই শুটিংয়ের প্রয়োজনে প্রকৃতির সান্নিধ্যে গেলে তিনি সেই মুহূর্তগুলোকে আলাদা আনন্দ হিসেবে উপভোগ করেন এবং খোলা পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটাতে পছন্দ করেন।
বয়সের কারণে কাজের সুযোগ ও শারীরিক সামর্থ্য সীমিত হয়ে এলেও, একজন শিল্পীর ভেতরের সৃষ্টির ক্ষুধা তার মধ্যে এখনো প্রবল। দিলারা জামানের ভাষায়, একজন শিল্পীর মন দুর্ভিক্ষে থাকা মানুষের মতো হাহাকার করে, যেখানে ভালো একটি কাজের মাধ্যমে তিনি দর্শকের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন। কাজের ক্ষেত্রে তিনি আপসহীন এবং পরিচালকের সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, যতক্ষণ না পরিচালক সন্তুষ্ট হচ্ছেন, ততক্ষণ তিনি যতবার প্রয়োজন কাজ করতে প্রস্তুত থাকেন।
সাফল্যের জন্য সততা, শ্রম ও চেষ্টাকেই প্রধান শর্ত মনে করেন এই অভিনেত্রী। তিনি মনে করেন, অল্প পরিচিতি বা প্রশংসায় নিজেকে বড় মনে করার প্রবণতা একজন শিল্পীর উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অভিনয়ের শেখার কোনো শেষ নেই উল্লেখ করে দিলারা জামান বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের প্রযুক্তির সহজলভ্যতার জন্য সৌভাগ্যবান মনে করেন। তিনি আশাবাদী যে, প্রযুক্তির এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুনরা তাদের চেয়েও ভালো কাজ উপহার দেবে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সততা ও দায়বদ্ধতাকেই সঙ্গী করা দিলারা জামান এখনো একটি ভালো কাজের অপেক্ষায় রয়েছেন, যা তাকে দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী আসন করে দেবে।





























