ইলন মাস্কের ‘ক্রুসেড’, বিতর্কের কেন্দ্রে নতুন চলচ্চিত্র

- আপডেট সময় : ০২:৫৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক আবারও আন্তর্জাতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। এবার তার সমালোচনার কারণ হয়েছে জার্মান পরিচালক উভে বোল নির্মিত ‘সিটিজেন ভিজিল্যান্ট’ নামক একটি সহিংস চলচ্চিত্র। হলিউড অভিনেতা আর্মি হ্যামার অভিনীত এই সিনেমাটি মুক্তির পর খুব একটা আলোচনায় না এলেও, ইলন মাস্ক নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ ৪৮ ঘণ্টার জন্য এটি বিনামূল্যে দেখার সুযোগ করে দিলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মাস্কের এই প্রচারণার ফলে সিনেমাটি অ্যামাজন ও অ্যাপলের মতো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
চলচ্চিত্রটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে একজন আমেরিকান ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে, যিনি ইউরোপের একটি দেশে গিয়ে নিজের হাতে আইন তুলে নেন। তিনি বিচারক, পুলিশ সদস্য, ধর্ষকদের একটি দল, একটি শরণার্থী পরিবার এবং একজন সাধারণ নাগরিককে হত্যা করেন। সিনেমাটিতে দাবি করা হয়েছে, ওই ব্যক্তি ইউরোপকে মুসলিম অভিবাসী ও তথাকথিত ‘ওয়োক’ রাজনীতির হাত থেকে রক্ষা করছেন। অত্যন্ত সহিংস ও রক্তাক্ত দৃশ্যের আধিক্যের কারণে জার্মানির চলচ্চিত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা শুরুতে ছবিটিকে রেটিং দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
মাস্কের এই ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। তিনি কেবল সিনেমাটি শেয়ারই করেননি, বরং অভিবাসীদের অপরাধের জবাবে সাধারণ মানুষের আইন হাতে তুলে নেওয়াকে ‘মধ্যপন্থী প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করা একটি পোস্টও রিপোস্ট করেন। সমালোচকদের মতে, মাস্কের এই পদক্ষেপ সহিংসতা ও বিদ্বেষকে উৎসাহিত করতে পারে, যদিও তার সমর্থকদের দাবি তিনি কেবল বাকস্বাধীনতাকে সমর্থন করছেন। কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষক জর্জিওস সামারাস মনে করেন, মাস্ক এখন নিজের অর্থ ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে একটি আদর্শিক লড়াইয়ে নেমেছেন।
২০২২ সালে টুইটার কিনে এর নাম পরিবর্তন করে এক্স রাখার পর থেকেই মাস্ক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন নিয়ম বাতিল করেছেন। তার দাবি, এতে বাকস্বাধীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু সমালোচকরা বলছেন এর ফলে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও চরম ডানপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া মাস্ক নিয়মিত শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর সংখ্যালঘু হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পোস্ট দিচ্ছেন এবং ফ্রান্সের মেরিন লে পেন ও যুক্তরাজ্যের টমি রবিনসনের মতো ডানপন্থী ব্যক্তিদের সমর্থন জানিয়েছেন। উত্তর আয়ারল্যান্ডে টমি রবিনসনের বিক্ষোভের তালিকা শেয়ার করার পর বেলফাস্টে সহিংস দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছিল।
সম্প্রতি মাস্ক ‘রিমাইগ্রেশন’ বা অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ধারণার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন। বার্লিনে প্রাইড অনুষ্ঠানে হামলার পর তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “যে রিমাইগ্রেশনের বিরোধিতা করে, সে বিশ্বাসঘাতক।” চলচ্চিত্রটি নিয়ে সমালোচনার জবাবে মাস্ক এটিকে ‘দেখার মতো’ একটি সিনেমা বলে মন্তব্য করেন। তবে ভ্যারাইটি ম্যাগাজিন একে ‘অবিশ্বাস্য রকমের খারাপ’ এবং রক্ষণশীল লেখক রড ড্রেহার একে ‘ফ্যাসিবাদী প্রচারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পরিচালক উভে বোলের দাবি, মাস্কের প্রচারের কারণে ছবিটি প্রায় ৬ লাখ ডলার আয় করেছে।




























