পুরান ঢাকায় জবি শিক্ষার্থীদের কষ্টের দ্বিতীয় উদাহরণ বিশ্বে নেই: উপাচার্য
- আপডেট সময় : ০২:৩৭:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর পুরান ঢাকার প্রতিকূল পরিবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা যেভাবে কষ্ট করে পড়াশোনা করছেন, তার দ্বিতীয় কোনো উদাহরণ সম্ভবত পৃথিবীতে আর নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। বৃহস্পতিবার মেধাবী হলের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘মেধাবী আউটডোর ইভেন্ট ২.০’, ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ এবং ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, তোমরা সম্ভাবনাময় তরুণ এবং তোমরাই আশার আলো। মেধাবী হলে থাকার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এই মেধাবী প্রকল্প শিক্ষার্থীদের জন্য একটি রহমত ও নিয়ামত হিসেবে কাজ করছে। এই হল থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা একদিন সমাজের সম্পদ ও অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জ্ঞান ও নৈতিকতার সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনার পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞানে অবদান রাখতে হবে। যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কখনো সমান হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকি ২১ হাজার শিক্ষার্থীর চেয়ে মেধাবী হলের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এই সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেধাবী হল-১-এর প্রভোস্ট অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, শিক্ষার্থীরা যে সুযোগ পেয়েছে তা সত্যিই সৌভাগ্যের বিষয়। পরিশ্রম ও দুঃখ-কষ্ট ছাড়া জীবনে কখনো সার্থকতা আসে না। কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আজম খান, পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক তারিক বিন আতিক এবং মেধাবী হলের ইনচার্জ মোহাম্মদ মামুনুর রশিদসহ অন্যান্য শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়ুন আহমেদ। অন্যদিকে ফটোগ্রাফি কনটেস্টে প্রথম হয়েছেন ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম রানা। এই ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন যথাক্রমে মাহাদি হাসান নাঈম ও মো. বাদল মিয়া। এছাড়া ইমামতি ও মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিচালিত মেধাবী প্রকল্পে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। এখানে আবাসনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিসিএস ও আইইএলটিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির বিশেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদনটি ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (04 September 2026) তারিখ রাত ০১:১৯ (01:19) মিনিটে প্রকাশিত হয়েছে।





























