ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে জরুরি বৈঠকে বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠক তিন দশক পর ইউরোপে বিরল সূর্যগ্রহণ দেখল কোটি কোটি মানুষ সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নিজের ভাবনা জানালেন জাইমা রহমান গ্যাস সংকটের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ অকৃতকার্যই শেষ কথা নয়, ব্যর্থতাকে জয় করতে শিখুক শিক্ষার্থীরা লঘুচাপের প্রভাবে ৩ বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস, ঢাকায় মেঘলা আকাশ ঢাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস, তাপমাত্রা অপরিবর্তিত বাবার মৃত্যুর পর মাঠে মেসি, লিগস কাপ থেকে বিদায় মায়ামির

অকৃতকার্যই শেষ কথা নয়, ব্যর্থতাকে জয় করতে শিখুক শিক্ষার্থীরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রবাদ আছে ‘অকৃতকার্য কৃতকার্যের চাবিকাঠি’। অথচ এই সত্যটি অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থীর কাছে ধরা দেয় না। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনটি যখন লাখো পরিবারে উদযাপনের বার্তা নিয়ে আসে, ঠিক তখনই রাজশাহীর কারিনা পাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের হালিমা খাতুন তরিকা এবং কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার তানিয়া খাতুনের পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার শোকে এই তিন শিক্ষার্থীর অকাল প্রস্থান আমাদের সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থার এক নির্মম বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এছাড়া দেশের আরও কয়েক জায়গায় পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে ঝরে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

রাজশাহীর বাগমারার কারিনা বিজ্ঞান বিভাগে দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে চরম বিষাদে আত্মহননের পথ বেছে নেন। একইভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের হালিমা অন্যান্য বিষয়ে সফল হলেও কেবল ইংরেজিতে ফেল করার কষ্ট সইতে না পেরে বিষপান করেন। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার তানিয়া খাতুনও একই হতাশায় নিজেকে শেষ করে দেয়। তানিয়া কুচিয়ামোড়া গ্রামের প্রবাসী আক্তারুল ও কবিতা খাতুন দম্পতির কন্যা এবং বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। সে গত বছরও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিল। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার ফলাফল প্রকাশের পর রাত ১০টার দিকে ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করে।

আমাদের সমাজে এসএসসি পরীক্ষাকে কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হয় না, বরং এটিকে সন্তানের যোগ্যতা ও সামাজিক মর্যাদার চূড়ান্ত মাপকাঠি বানিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের দিন থেকেই ‘জিপিএ-৫ পেয়েছ তো?’ কিংবা ‘অমুকের সন্তান কত পেয়েছে?’—এমন তুলনামূলক প্রতিযোগিতায় কৈশোরের কোমল মন পিষ্ট হয়। এই সামাজিক চাপের মুখে অনেক শিক্ষার্থী বেঁচে থাকার মৌলিক ইচ্ছাটুকু হারিয়ে ফেলে। অথচ ভালো রেজাল্টের চেয়ে মানবিক মানুষ হওয়া বেশি জরুরি।

একটি পাবলিক পরীক্ষায় খারাপ করা মানেই জীবনের শেষ গন্তব্য নয়। শিক্ষাব্যবস্থায় মানোন্নয়ন পরীক্ষা, পুনঃনিরীক্ষণ বা পুনরায় অংশ নেওয়ার মতো একাধিক বৈধ পথ খোলা থাকে। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার নির্দিষ্ট ধাপে থমকে যাওয়া বহু মানুষ পরবর্তী সময়ে মেধা ও পরিচর্যায় সমাজের শীর্ষে উঠে এসেছেন। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য জীবন বাঁচিয়ে রাখা প্রথম শর্ত।

পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া কোনো অপরাধ নয়, বরং এটি সন্তানের জন্য সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্ত। এ সময় অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের বকাঝকা বা তুলনা না করে সন্তানের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের আশ্বস্ত করতে হবে যে, ‘আমরা তোমার পাশেই আছি, যা হয়েছে তা নিয়ে হতাশ না হয়ে আগামীতে ভালো করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।’ সন্তান যখন হতাশা প্রকাশ করে বা নিজেকে শেষ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়, তখন সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে কেবল কৃতকার্যদের নিয়ে উদযাপনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে অকৃতকার্যদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা।

কারিনা, হালিমা ও তানিয়ার মৃত্যু কেবল তিনটি পরিবারের শোক নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা। সন্তানদের শুধু জয়ী হতে শেখালে চলবে না, ব্যর্থতার পর ধুলো ঝেড়ে কীভাবে আবার উঠে দাঁড়াতে হয়, সেই শিক্ষা দিতে হবে। কারণ পরীক্ষার ফল সংশোধন করা সম্ভব, কিন্তু ঝরে যাওয়া একটি অমূল্য জীবন আর ফিরে পাওয়া যায় না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

অকৃতকার্যই শেষ কথা নয়, ব্যর্থতাকে জয় করতে শিখুক শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ১০:৪২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

প্রবাদ আছে ‘অকৃতকার্য কৃতকার্যের চাবিকাঠি’। অথচ এই সত্যটি অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থীর কাছে ধরা দেয় না। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনটি যখন লাখো পরিবারে উদযাপনের বার্তা নিয়ে আসে, ঠিক তখনই রাজশাহীর কারিনা পাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের হালিমা খাতুন তরিকা এবং কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার তানিয়া খাতুনের পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার শোকে এই তিন শিক্ষার্থীর অকাল প্রস্থান আমাদের সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থার এক নির্মম বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এছাড়া দেশের আরও কয়েক জায়গায় পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে ঝরে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

রাজশাহীর বাগমারার কারিনা বিজ্ঞান বিভাগে দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে চরম বিষাদে আত্মহননের পথ বেছে নেন। একইভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের হালিমা অন্যান্য বিষয়ে সফল হলেও কেবল ইংরেজিতে ফেল করার কষ্ট সইতে না পেরে বিষপান করেন। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার তানিয়া খাতুনও একই হতাশায় নিজেকে শেষ করে দেয়। তানিয়া কুচিয়ামোড়া গ্রামের প্রবাসী আক্তারুল ও কবিতা খাতুন দম্পতির কন্যা এবং বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। সে গত বছরও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিল। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার ফলাফল প্রকাশের পর রাত ১০টার দিকে ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করে।

আমাদের সমাজে এসএসসি পরীক্ষাকে কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হয় না, বরং এটিকে সন্তানের যোগ্যতা ও সামাজিক মর্যাদার চূড়ান্ত মাপকাঠি বানিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের দিন থেকেই ‘জিপিএ-৫ পেয়েছ তো?’ কিংবা ‘অমুকের সন্তান কত পেয়েছে?’—এমন তুলনামূলক প্রতিযোগিতায় কৈশোরের কোমল মন পিষ্ট হয়। এই সামাজিক চাপের মুখে অনেক শিক্ষার্থী বেঁচে থাকার মৌলিক ইচ্ছাটুকু হারিয়ে ফেলে। অথচ ভালো রেজাল্টের চেয়ে মানবিক মানুষ হওয়া বেশি জরুরি।

একটি পাবলিক পরীক্ষায় খারাপ করা মানেই জীবনের শেষ গন্তব্য নয়। শিক্ষাব্যবস্থায় মানোন্নয়ন পরীক্ষা, পুনঃনিরীক্ষণ বা পুনরায় অংশ নেওয়ার মতো একাধিক বৈধ পথ খোলা থাকে। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার নির্দিষ্ট ধাপে থমকে যাওয়া বহু মানুষ পরবর্তী সময়ে মেধা ও পরিচর্যায় সমাজের শীর্ষে উঠে এসেছেন। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য জীবন বাঁচিয়ে রাখা প্রথম শর্ত।

পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া কোনো অপরাধ নয়, বরং এটি সন্তানের জন্য সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্ত। এ সময় অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের বকাঝকা বা তুলনা না করে সন্তানের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের আশ্বস্ত করতে হবে যে, ‘আমরা তোমার পাশেই আছি, যা হয়েছে তা নিয়ে হতাশ না হয়ে আগামীতে ভালো করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো।’ সন্তান যখন হতাশা প্রকাশ করে বা নিজেকে শেষ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়, তখন সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে কেবল কৃতকার্যদের নিয়ে উদযাপনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে অকৃতকার্যদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা।

কারিনা, হালিমা ও তানিয়ার মৃত্যু কেবল তিনটি পরিবারের শোক নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা। সন্তানদের শুধু জয়ী হতে শেখালে চলবে না, ব্যর্থতার পর ধুলো ঝেড়ে কীভাবে আবার উঠে দাঁড়াতে হয়, সেই শিক্ষা দিতে হবে। কারণ পরীক্ষার ফল সংশোধন করা সম্ভব, কিন্তু ঝরে যাওয়া একটি অমূল্য জীবন আর ফিরে পাওয়া যায় না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh