ঢাকা ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চান ট্রাম্প, ‘মানুষ হত্যা করতে চান না’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী আজ সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনই আনসার বাহিনীর প্রধান কর্তব্য: ডিজি গ্যাস সংকটে লোকসানের মুখে সিএনজি স্টেশন, চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মীরা টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ না ফেরার দেশে প্রবীণ বলিউড অভিনেতা প্রদীপ সিং রাওয়াত সরকার উৎখাতের চেষ্টা করলে নিজেরাই উৎখাত হবেন: আবুল খায়ের উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে বাগদানের গুঞ্জনে ব্র্যাডলি কুপার ও জিজি হাদিদ গণতন্ত্র ও জনগণের শাসন স্থায়ী করতে প্রয়োজনে লড়াইয়ের অঙ্গীকার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের

শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া: এক মেধাবী শিক্ষার্থীর অপূর্ণ স্বপ্ন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে নিহত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার জীবন ছিল অভাব আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য সংমিশ্রণ। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম নেয়া হৃদয়ের বাবা রতন চন্দ্র তরুয়া ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি এবং মা অর্চনা রানী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েও মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন। দুই কক্ষের টিনের ঘরে বেড়ে ওঠা হৃদয় ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করেছেন, কিন্তু মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় টিউশনি করে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি বাবা-মায়ের কষ্ট লাঘবের স্বপ্ন দেখতেন হৃদয়। বিসিএস ক্যাডার হওয়ার মাধ্যমে বাবার কাঠের কাজ বন্ধ করা, মায়ের চিকিৎসা করানো এবং একটি পাকা বাড়ি তৈরির স্বপ্ন ছিল তার। কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে নয়, বরং বৈষম্যের বিরুদ্ধে একজন সচেতন নাগরিক ও শিক্ষার্থী হিসেবেই তিনি জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

১৮ই জুলাই ২০২৪ তারিখে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে আন্দোলনের সময় গলায় ও বুকে গুলিবিদ্ধ হন হৃদয়। এরপর তাকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ পাঁচ দিনের লড়াই শেষে ২৩শে জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ নয়, বরং রাষ্ট্র ও নাগরিক সম্পর্কের এক গভীর নৈতিক প্রশ্ন তুলে ধরেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হৃদয়ের আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে ২০২৫ সালের ফল প্রকাশের সময় তার নামে একটি বিশেষ সম্মানসূচক গ্রেডশিট প্রকাশ করে, যেখানে প্রতিটি কোর্সে নম্বর শূন্য রাখা হয়। পটুয়াখালীর সেই ছোট্ট ভাড়া বাসায় আজও হৃদয়ের বই ও খাতাগুলো রয়ে গেছে, যা তার পরিবারের জন্য এক গভীর শূন্যতার প্রতীক। হৃদয়ের মতো তরুণদের আত্মত্যাগ আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্নই ছিল তাদের মূল চালিকাশক্তি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া: এক মেধাবী শিক্ষার্থীর অপূর্ণ স্বপ্ন

আপডেট সময় : ০৫:৩৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
print news

জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে নিহত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার জীবন ছিল অভাব আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য সংমিশ্রণ। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম নেয়া হৃদয়ের বাবা রতন চন্দ্র তরুয়া ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি এবং মা অর্চনা রানী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েও মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন। দুই কক্ষের টিনের ঘরে বেড়ে ওঠা হৃদয় ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করেছেন, কিন্তু মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় টিউশনি করে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি বাবা-মায়ের কষ্ট লাঘবের স্বপ্ন দেখতেন হৃদয়। বিসিএস ক্যাডার হওয়ার মাধ্যমে বাবার কাঠের কাজ বন্ধ করা, মায়ের চিকিৎসা করানো এবং একটি পাকা বাড়ি তৈরির স্বপ্ন ছিল তার। কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে নয়, বরং বৈষম্যের বিরুদ্ধে একজন সচেতন নাগরিক ও শিক্ষার্থী হিসেবেই তিনি জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

১৮ই জুলাই ২০২৪ তারিখে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে আন্দোলনের সময় গলায় ও বুকে গুলিবিদ্ধ হন হৃদয়। এরপর তাকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ পাঁচ দিনের লড়াই শেষে ২৩শে জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ নয়, বরং রাষ্ট্র ও নাগরিক সম্পর্কের এক গভীর নৈতিক প্রশ্ন তুলে ধরেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হৃদয়ের আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে ২০২৫ সালের ফল প্রকাশের সময় তার নামে একটি বিশেষ সম্মানসূচক গ্রেডশিট প্রকাশ করে, যেখানে প্রতিটি কোর্সে নম্বর শূন্য রাখা হয়। পটুয়াখালীর সেই ছোট্ট ভাড়া বাসায় আজও হৃদয়ের বই ও খাতাগুলো রয়ে গেছে, যা তার পরিবারের জন্য এক গভীর শূন্যতার প্রতীক। হৃদয়ের মতো তরুণদের আত্মত্যাগ আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্নই ছিল তাদের মূল চালিকাশক্তি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin