জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যবৃদ্ধি: ২০২২ সালের রেকর্ড ও মূল্যস্ফীতির নতুন শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৪:৪১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

দেশে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর নতুন করে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অকটেন ও পেট্রলের দাম এবারই প্রথম ১৫০ টাকার ঘর ছাড়াল। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সীমিত আয়ের ও দরিদ্র মানুষ চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এর আগে ২০২২ সালের আগস্ট মাসে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল, যার প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ সালের ৬ আগস্ট জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়িয়ে ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর করা হয়। সে সময় ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছিল। এ ছাড়া পেট্রলের দাম ৮৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা এবং অকটেনের দাম ৮৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়, যা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১০০ টাকার গণ্ডি পার করে। এর প্রভাবে সে বছরের জুলাইয়ে থাকা ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি আগস্ট মাসে একলাফে বেড়ে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে পৌঁছায়। এরপর গত চার বছরে মূল্যস্ফীতি আর কখনোই সাড়ে ৭ শতাংশের নিচে নামেনি।
বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতি এমনিতেই উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে উঠেছিল, যা ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। ওই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে অন্তর্বর্তী ও বিএনপি সরকারের আমলে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৮ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। মূলত জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমাতেই সরকার এবার তেলের দাম বাড়িয়েছে। তবে এর ফলে পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে বাজারে জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পেছনে তেলের দামের পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। আগামী অক্টোবর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা বর্ধিত বেতন-ভাতা পেতে শুরু করবেন, যা বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়াবে। অন্যদিকে, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার কমানোর ফলে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে বাজারে অর্থের সরবরাহ বাড়তে পারে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ইরান যুদ্ধের আগের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। ফলে দেশে দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না, অন্যথায় সরকারকে বিপুল ভর্তুকি দিতে হতো। তবে তিনি সমালোচনা করে বলেন, মাসের শুরুতে মূল্য সমন্বয়ের যে নীতি ছিল, তা না মেনে হঠাৎ মাসের ২০ তারিখের পর দাম বাড়ানো হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে বাজারে যেন কেউ অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে। পাশাপাশি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর মতো আর্থিক সংগতি এখন সরকারের নেই বিধায় বিদ্যমান সুবিধার সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।





























