ঢাকা ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌন্দর্যের ভেতর ইতিহাসের শরীর: হেগেল ও মার্কসের নন্দনতত্ত্বের তুলনামূলক পাঠ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে: এস এম জিলানী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বনশ্রীতে কুকুরকে খাওয়াতে গিয়ে তরুণীকে মারধর, থানায় অভিযোগ ঈশ্বরদীতে ক্রেতা সেজে দুই ভরি স্বর্ণের মালা নিয়ে চম্পট গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক সংকটে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যবসায়ীরা বর্তমানে টিকে থাকার লড়াইয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক ব্যবসায়ীই জানিয়েছেন, পরিস্থিতি কোভিডের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উত্তর ক্যারোলাইনার র‌্যালিতে অবস্থিত ডিলওয়ার্থ কফির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ ভজতা জানান, ২০২৪ সালে ব্রাজিলের কফি উৎপাদন সংকট এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্কের ধাক্কা সামলাতে গিয়ে তাদের ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরান যুদ্ধ, লোহিত সাগরের অস্থিরতা, জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং কনটেইনারের ঘাটতি। এই বহুমুখী সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় এবং সার উৎপাদনের খরচও অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা ভজতা জানান, এমন অস্থিরতার মুখোমুখি তিনি আগে কখনো হননি।

ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টের (আইএসএম) সাম্প্রতিক মাসিক জরিপেও ব্যবসায়ীদের এই গভীর উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে। অনেক ব্যবসায়ী বর্তমান পরিস্থিতিকে মহামারির সময়ের চেয়েও জটিল বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, কোভিডের সময় পরিস্থিতি বরং এর চেয়ে ভালো ছিল। ব্যাপক সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যয় এবং পণ্যের দামের অস্থিতিশীলতায় তারা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা ক্রেতারাও আর কোনো ধরনের মূল্যবৃদ্ধি মেনে নেওয়ার অবস্থায় নেই।

ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ্লাই চেইন কর্মসূচির পরিচালক জ্যাক বাফিংটন বলেন, এটি নিশ্চিতভাবেই কোভিডের চেয়েও বড় সমস্যা এবং এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের সংকট। এটি মূলত জ্বালানির সমস্যা। ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধকে একটি সাময়িক অর্থনৈতিক ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে যে, যুদ্ধ শেষ হলে মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমে যাবে। তবে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থার এই ঐতিহাসিক সংকট যুদ্ধের অবসানেও দ্রুত কাটবে না। এমনকি যুদ্ধ যদি অলৌকিকভাবে আগামীকালই শেষ হয়ে যায়, তবুও না।

শ্রমিক দিবসে দেয়া এক ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ জিতে গেলে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে আসবে এবং সবকিছু দ্রুতই ঘটবে। এর নজির হিসেবে তিনি জুনের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতা স্মারকে সই করার পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার কথা উল্লেখ করেন, যখন গ্যাসোলিনের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বুধবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, গ্যাসের দাম অনেক বেশি এবং হরমুজ প্রণালির বিষয়টি সমাধান করতে পারলে এর ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, জুনের পর পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে।

জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রভাব এখন অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। খাদ্য ও জ্বালানি বাদে মূল মূল্যস্ফীতি গত মাসে এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এছাড়া ইউক্রেনে রুশ তেল শোধনাগারে হামলার কারণে ডিজেলের দাম মার্চ মাসের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর পাশাপাশি আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ, বিশেষ করে পরপর আঘাত হানা টাইফুনের কারণে সাংহাই বন্দর কার্যত দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের বিলম্ব হচ্ছে, যার প্রভাব এখনো বিদ্যমান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক সংকটে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ১২:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যবসায়ীরা বর্তমানে টিকে থাকার লড়াইয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক ব্যবসায়ীই জানিয়েছেন, পরিস্থিতি কোভিডের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উত্তর ক্যারোলাইনার র‌্যালিতে অবস্থিত ডিলওয়ার্থ কফির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ ভজতা জানান, ২০২৪ সালে ব্রাজিলের কফি উৎপাদন সংকট এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্কের ধাক্কা সামলাতে গিয়ে তাদের ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরান যুদ্ধ, লোহিত সাগরের অস্থিরতা, জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং কনটেইনারের ঘাটতি। এই বহুমুখী সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় এবং সার উৎপাদনের খরচও অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা ভজতা জানান, এমন অস্থিরতার মুখোমুখি তিনি আগে কখনো হননি।

ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টের (আইএসএম) সাম্প্রতিক মাসিক জরিপেও ব্যবসায়ীদের এই গভীর উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে। অনেক ব্যবসায়ী বর্তমান পরিস্থিতিকে মহামারির সময়ের চেয়েও জটিল বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, কোভিডের সময় পরিস্থিতি বরং এর চেয়ে ভালো ছিল। ব্যাপক সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যয় এবং পণ্যের দামের অস্থিতিশীলতায় তারা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা ক্রেতারাও আর কোনো ধরনের মূল্যবৃদ্ধি মেনে নেওয়ার অবস্থায় নেই।

ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ্লাই চেইন কর্মসূচির পরিচালক জ্যাক বাফিংটন বলেন, এটি নিশ্চিতভাবেই কোভিডের চেয়েও বড় সমস্যা এবং এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের সংকট। এটি মূলত জ্বালানির সমস্যা। ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধকে একটি সাময়িক অর্থনৈতিক ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে যে, যুদ্ধ শেষ হলে মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমে যাবে। তবে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থার এই ঐতিহাসিক সংকট যুদ্ধের অবসানেও দ্রুত কাটবে না। এমনকি যুদ্ধ যদি অলৌকিকভাবে আগামীকালই শেষ হয়ে যায়, তবুও না।

শ্রমিক দিবসে দেয়া এক ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ জিতে গেলে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে আসবে এবং সবকিছু দ্রুতই ঘটবে। এর নজির হিসেবে তিনি জুনের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতা স্মারকে সই করার পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার কথা উল্লেখ করেন, যখন গ্যাসোলিনের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বুধবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, গ্যাসের দাম অনেক বেশি এবং হরমুজ প্রণালির বিষয়টি সমাধান করতে পারলে এর ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, জুনের পর পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে।

জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রভাব এখন অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। খাদ্য ও জ্বালানি বাদে মূল মূল্যস্ফীতি গত মাসে এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এছাড়া ইউক্রেনে রুশ তেল শোধনাগারে হামলার কারণে ডিজেলের দাম মার্চ মাসের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর পাশাপাশি আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ, বিশেষ করে পরপর আঘাত হানা টাইফুনের কারণে সাংহাই বন্দর কার্যত দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের বিলম্ব হচ্ছে, যার প্রভাব এখনো বিদ্যমান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin