২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য এনবিআরের
- আপডেট সময় : ১০:২৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমানের ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে বড় ধরনের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে করের আওতা বাড়ানো, কর পরিপালন জোরদার, ডিজিটাল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনকে সমন্বিত করতে ‘ওয়ান এনবিআর’ কাঠামো গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগ আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তে সমন্বিতভাবে করদাতা ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে। এর মাধ্যমে করদাতার তথ্য, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কর পরিশোধ ও বকেয়া রাজস্বের তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলোকে আরও সুসংহত করা হবে। গত মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এই সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। সেখানে সরকারি ব্যয়ের চাহিদা মেটাতে রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত অধিকাংশ সময় ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১১-১২ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মধ্যে তা প্রায় ১০ শতাংশে উঠলেও পরে আবার কমে যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই অনুপাত ৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এনবিআর জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে স্বল্পমেয়াদে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মধ্যমেয়াদে ১০ শতাংশে অনুপাত উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজস্ব প্রশাসনে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং করদাতা সেবা বৃদ্ধিকে রাজস্ব বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এনবিআর। সরকারি মোট রাজস্বের প্রায় ৮৬ শতাংশ এনবিআর থেকে আসে উল্লেখ করে সংস্থাটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসসকে জানান, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এখন রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে। গত ২৫ বছরের জিডিপি ও সরকারি ব্যয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সরকারি ব্যয় ৪ দশমিক ৪৭ গুণ বাড়লেও এনবিআরের রাজস্ব আহরণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৪০ গুণ, যা রাজস্ব আহরণের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর তাগিদ দেয়।
প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনায় আইনি কাঠামো পর্যালোচনা, প্রতিটি করদাতার জন্য স্বতন্ত্র মাস্টার ডেটাবেজ, অভিন্ন ডেটা ডিকশনারি ও সিস্টেম ইনভেন্টরি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া রাজস্ব নীতি সচিবালয় গঠন, কর-ব্যয়ের রেজিস্টার তৈরি এবং নীতির আর্থিক প্রভাব নির্ধারণে বাধ্যতামূলক টেমপ্লেট চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রথম তিন বছরে একটি সমন্বিত করদাতা অ্যাকাউন্ট, গ্রাহক ও মামলা ব্যবস্থাপনার সমন্বিত ব্যবস্থা এবং তৃতীয় পক্ষের তথ্যের সঙ্গে করদাতার তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কাস্টমসের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত সীমান্ত কার্যক্রম বহাল রেখে আমদানি ও রপ্তানিকারকদের তথ্যের সঙ্গে পণ্যের মূল্যায়ন এবং ভ্যাট ও আয়কর ঝুঁকির তথ্য সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরবর্তী তিন থেকে পাঁচ বছরে কর পরিপালন বিশ্লেষণের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং জালিয়াতি শনাক্তে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব নীতির মাধ্যমে শিল্পোন্নয়ন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে কৃষি, তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে শুল্ক ও কর সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনবিআর বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে শুধু করের হার বাড়ালেই হবে না। এর জন্য করের আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো, প্রযুক্তি ও তথ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি ও করদাতাদের কর পরিপালন নিশ্চিত করা জরুরি।
উপস্থাপনা অনুযায়ী, ২০০১-০২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত রাজস্ব প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকৃত রাজস্ব আয়ের তুলনায় রাজস্ব প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে।




























