ঢাকা ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন এআই-এর যুগেও নিজের অবস্থানে অনড় ‘লিপস্টিক কিং’ লি জিয়াকি টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের শুনানি আজ যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিংকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা, আলোচনায় বাণিজ্যসহ নানা ইস্যু টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে পাকিস্তানের আবরার, পেছনে ফেললেন রশিদকে টানা সাত দিন কমল বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম মহানবী (সা.)-এর ইনসাফ: মানবজাতির জন্য অনুপম আদর্শ মুকসুদপুরে পৃথক স্থান থেকে নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ৫ গুণ বাড়ালো ইসি মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা

আগামী ৫ বছরে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আরও ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ দেশে আনতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য অর্জনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচ্যাম) সঙ্গে সরকার অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন বলরুমে অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহ-সভাপতি আলা উদ্দিন আজাদ, সাবেক সভাপতিরা, কার্যনির্বাহী কমিটির বর্তমান ও সাবেক সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত তিন দশক ধরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে অ্যামচ্যাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এটি কেবল একটি সাধারণ ব্যবসায়িক সংগঠন নয়, বরং এটি সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ সেতুবন্ধন হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যের পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক সর্বোত্তম অনুশীলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখছে। তিনি জানান, অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং দেশের জাতীয় রাজস্বে ২০ শতাংশের বেশি অবদান রাখছে, যা এ দেশের অর্থনীতির ওপর মার্কিন ব্যবসায়ীদের গভীর আস্থার প্রমাণ।

সম্প্রতি অ্যামচ্যামের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিনিয়োগ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে যেকোনো প্রকৃত সমস্যা উত্থাপন করা হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অর্থনৈতিক সুযোগের পরিধি বাড়াতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, বিপুল তরুণ ও দক্ষ কর্মীবাহিনী এবং বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের কারণে প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন শিল্প ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শুধু সুযোগ থাকাই বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি পূর্বাভাসযোগ্য পরিবেশ, সহজে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ, দক্ষ বাণিজ্য সুবিধা এবং স্থিতিশীল নীতিগত কাঠামো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই সরকার বর্তমানে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ডিজিটালাইজেশন বৃদ্ধি এবং আরও বেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

আগামী ৫ বছরে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১০:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আরও ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ দেশে আনতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য অর্জনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচ্যাম) সঙ্গে সরকার অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন বলরুমে অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহ-সভাপতি আলা উদ্দিন আজাদ, সাবেক সভাপতিরা, কার্যনির্বাহী কমিটির বর্তমান ও সাবেক সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত তিন দশক ধরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে অ্যামচ্যাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এটি কেবল একটি সাধারণ ব্যবসায়িক সংগঠন নয়, বরং এটি সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ সেতুবন্ধন হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যের পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক সর্বোত্তম অনুশীলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখছে। তিনি জানান, অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং দেশের জাতীয় রাজস্বে ২০ শতাংশের বেশি অবদান রাখছে, যা এ দেশের অর্থনীতির ওপর মার্কিন ব্যবসায়ীদের গভীর আস্থার প্রমাণ।

সম্প্রতি অ্যামচ্যামের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিনিয়োগ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে যেকোনো প্রকৃত সমস্যা উত্থাপন করা হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অর্থনৈতিক সুযোগের পরিধি বাড়াতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, বিপুল তরুণ ও দক্ষ কর্মীবাহিনী এবং বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের কারণে প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন শিল্প ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শুধু সুযোগ থাকাই বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি পূর্বাভাসযোগ্য পরিবেশ, সহজে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ, দক্ষ বাণিজ্য সুবিধা এবং স্থিতিশীল নীতিগত কাঠামো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই সরকার বর্তমানে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ডিজিটালাইজেশন বৃদ্ধি এবং আরও বেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh