সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় পরিস্থিতি জটিল হবে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
- আপডেট সময় : ০৫:৫০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে সরকার রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখলে সমস্যা কমবে না, বরং সিদ্ধান্ত নিতে যত দেরি হবে, পরিস্থিতি তত বেশি জটিল আকার ধারণ করবে। এর ফলে সরকারের অন্যান্য স্বাভাবিক কার্যক্রমও বিঘ্নিত হতে পারে।
সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের ওপর আয়োজিত এক মিডিয়া সংলাপে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন। এ সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির আরেক সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।
সংলাপে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর পেছনে একটি বড় কারণ হলো সরকারের আর্থিক সক্ষমতা। চলতি অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকাই ঘাটতি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া বেতন-কাঠামোর প্রতিবেদনটি মূল্যায়ন করে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের একটি সুপারিশ এসেছিল, যা সবাই মেনেও নিয়েছিল। এত দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ না করে শুরুতেই যদি ২০-২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিয়ে কিছুটা সময় চেয়ে নেওয়া হতো, তবে সেটি অনেক ভালো হতো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি মোটেও সন্তোষজনক নয়।
সরকারের গত ছয় মাসের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে সিপিডি জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে দেশের তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে অন্তত ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে চাকরি হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ জন মানুষ।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন উত্তরাধিকার সূত্রেই কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা ও বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল, যার মধ্যে চলমান যুদ্ধ অন্যতম। তবে মূল সমস্যা হলো, দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার প্রকৃত চিত্র নিয়ে সরকার কোনো সমন্বিত তথ্যভিত্তিক দলিল বা শ্বেতপত্র তৈরি করেনি। এর ফলে সরকারের বর্তমান বিভিন্ন পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঠিক মূল্যায়ন করা যেমন কঠিন হচ্ছে, তেমনি সরকারের নানা বক্তব্যের সঙ্গে দাপ্তরিক পরিসংখ্যানের সমন্বয় করাও দুরূহ হয়ে পড়েছে।
নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনগণের দুটি বড় প্রত্যাশা ছিল—অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা। তবে এই দুই ক্ষেত্রে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, সংস্কার কর্মসূচির ক্ষেত্রে কোনো সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা দেখা যায়নি এবং ইশতেহারে ঘোষিত অনেকগুলো কমিশন এখনো গঠন করা সম্ভব হয়নি। সরকারের নেওয়া প্রায় ৩৬২টি পদক্ষেপের একটি তালিকা তৈরি করে ৯টি ভাগে ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’-এর মাধ্যমে মূল্যায়ন করছে সিপিডি।
সুশাসনের ক্ষেত্রে ১০৫টি ঘটনা মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করে সংলাপে কিছু ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়। সরকারি সংসদ সদস্যদের প্লট ও গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সিপিডি। তবে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার সরকারি প্রতিশ্রুতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।




























