ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তিস্তা মহাপরিকল্পনা উত্তরাঞ্চলের সমৃদ্ধির চাবিকাঠি: ত্রাণমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করল পোলিশ ব্র্যান্ড এলপিপি দেশেই তৈরি হবে বার্ড ফ্লু ও গোটপক্সের ভ্যাকসিন, কমবে আমদানি নির্ভরতা শিবচরে বিদ্যুৎ সংকটে সহমর্মিতা জানালেন এমপি হানজালা তারেক রহমানকে ভারত সফরের পাশাপাশি ব্রিকস সেশনে আমন্ত্রণ শ্রীনগরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫ রাউন্ড লুণ্ঠিত শটগানের গুলি উদ্ধার বিরোধী দলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেন মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ইউটিউবের মনিটাইজেশন নীতিমালায় আসছে বড় পরিবর্তন, বাড়ছে কঠোরতা কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প: নিহত বেড়ে ১৬৪, নিখোঁজ ২৭০০ সিদ্ধিরগঞ্জে কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস

বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করল পোলিশ ব্র্যান্ড এলপিপি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের অন্যতম বড় ক্রেতা পোল্যান্ডের ব্র্যান্ড এলপিপি এ দেশে তাদের ব্যবসা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। রাশিয়ার একটি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের পাওনা অর্থ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার জেরে সম্প্রতি ব্যবসা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল তারা। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি কাটিয়ে এখন আগের মতোই বাংলাদেশে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে এই পোলিশ ব্র্যান্ড। তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং এলপিপি এসএ এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানায় বিজিএমইএ।

যৌথ বিবৃতিটিতে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও এলপিপি এসএর পরিচালক দোরোতা ইয়ানকোভস্কা-তোমকুভ সই করেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তৃতীয় কোনো পক্ষের বিরোধের কারণে এলপিপির সঙ্গে ব্যবসা করা বাংলাদেশের ৩৫০টির বেশি তৈরি পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। রাশিয়ার ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের দেনা পরিশোধে এলপিপি আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে নিজস্ব আইনি অবস্থান বজায় রেখে এই দেনা পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি গঠনমূলক সংলাপে সহায়তা করবে তারা।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, এফইএস রিটেইলের কাছে পাওনা অর্থ পাওয়ার দাবিগুলো সরাসরি সংশ্লিষ্ট দায়বদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কাছেই উপস্থাপন করা উচিত—এলপিপির এই অবস্থানকে তারা বিবেচনায় নিয়েছে। তবে উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে যে, বকেয়া না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলো বর্তমানে কঠিন ব্যবসায়িক পরিস্থিতির মুখোমুখি। এই দেনা নিষ্পত্তির যেকোনো আলোচনা কেবল আইনগতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পক্ষের সঙ্গেই হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো ধরনের ঢালাও বা বিভ্রান্তিকর প্রচার এড়িয়ে চলার ওপর জোর দিয়েছে উভয় পক্ষ, যা অন্য প্রস্তুতকারক, শ্রমিক কিংবা বাংলাদেশ ও এলপিপির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এলপিপি স্পষ্ট করেছে যে, সম্প্রতি বাংলাদেশে তাদের সোর্সিং কার্যক্রম পর্যালোচনার মূল লক্ষ্য ছিল স্থানীয় কর্মীদের নিরাপত্তা দেওয়া, আইনি নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা এবং একটি স্থিতিশীল ও সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় রাখা। এই উদ্যোগ কোনোভাবেই প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে ছিল না এবং এটি এলপিপির সব প্রত্যক্ষ চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিকে কোনোভাবে প্রভাবিত করবে না।

এই সংকটের সূত্রপাত মূলত রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের বকেয়াকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের ৪০ জন রপ্তানিকারক দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৪ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রপ্তানি মূল্য পাবেন। রপ্তানিকারকদের দাবি, এলপিপির ঢাকা কার্যালয় থেকে নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই তারা ওই প্রতিষ্ঠানে পোশাক রপ্তানি করেছিলেন। এই বকেয়া আদায়ের জন্য গত মাসে দুটি বায়িং হাউসের মালিক এলপিপির ঢাকা কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। মামলার পর এলপিপির কর্মকর্তাদের বাসায় রাতে পুলিশ অভিযানও চালায়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ জুলাই এলপিপি বিজিএমইএ, নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ এবং বায়িং হাউসের মালিকদের সংগঠন বিজিবিএকে চিঠি দিয়ে জানায় যে তারা বাংলাদেশ থেকে ধীরে ধীরে ক্রয়াদেশ কমিয়ে দেবে। পরবর্তীতে ৩১ জুলাই সরবরাহকারীদের চিঠি দিয়ে তারা নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া এবং নতুন পণ্য উন্নয়নের কাজ স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। তবে নতুন সমঝোতার ফলে সেই সংকট কেটে গেছে। বিদায়ী অর্থবছরে এলপিপি বাংলাদেশ থেকে ৭০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক কিনেছিল। চলতি অর্থবছরে তাদের ৭৭ কোটি ডলারের পোশাক আমদানির পরিকল্পনা ছিল এবং সে অনুযায়ী তারা ক্রয়াদেশ দেওয়াও শুরু করেছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করল পোলিশ ব্র্যান্ড এলপিপি

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
print news

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের অন্যতম বড় ক্রেতা পোল্যান্ডের ব্র্যান্ড এলপিপি এ দেশে তাদের ব্যবসা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। রাশিয়ার একটি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের পাওনা অর্থ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার জেরে সম্প্রতি ব্যবসা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল তারা। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি কাটিয়ে এখন আগের মতোই বাংলাদেশে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে এই পোলিশ ব্র্যান্ড। তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং এলপিপি এসএ এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানায় বিজিএমইএ।

যৌথ বিবৃতিটিতে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও এলপিপি এসএর পরিচালক দোরোতা ইয়ানকোভস্কা-তোমকুভ সই করেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তৃতীয় কোনো পক্ষের বিরোধের কারণে এলপিপির সঙ্গে ব্যবসা করা বাংলাদেশের ৩৫০টির বেশি তৈরি পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। রাশিয়ার ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের দেনা পরিশোধে এলপিপি আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে নিজস্ব আইনি অবস্থান বজায় রেখে এই দেনা পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি গঠনমূলক সংলাপে সহায়তা করবে তারা।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, এফইএস রিটেইলের কাছে পাওনা অর্থ পাওয়ার দাবিগুলো সরাসরি সংশ্লিষ্ট দায়বদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কাছেই উপস্থাপন করা উচিত—এলপিপির এই অবস্থানকে তারা বিবেচনায় নিয়েছে। তবে উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে যে, বকেয়া না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলো বর্তমানে কঠিন ব্যবসায়িক পরিস্থিতির মুখোমুখি। এই দেনা নিষ্পত্তির যেকোনো আলোচনা কেবল আইনগতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পক্ষের সঙ্গেই হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো ধরনের ঢালাও বা বিভ্রান্তিকর প্রচার এড়িয়ে চলার ওপর জোর দিয়েছে উভয় পক্ষ, যা অন্য প্রস্তুতকারক, শ্রমিক কিংবা বাংলাদেশ ও এলপিপির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এলপিপি স্পষ্ট করেছে যে, সম্প্রতি বাংলাদেশে তাদের সোর্সিং কার্যক্রম পর্যালোচনার মূল লক্ষ্য ছিল স্থানীয় কর্মীদের নিরাপত্তা দেওয়া, আইনি নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা এবং একটি স্থিতিশীল ও সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় রাখা। এই উদ্যোগ কোনোভাবেই প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে ছিল না এবং এটি এলপিপির সব প্রত্যক্ষ চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিকে কোনোভাবে প্রভাবিত করবে না।

এই সংকটের সূত্রপাত মূলত রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের বকেয়াকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের ৪০ জন রপ্তানিকারক দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৪ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রপ্তানি মূল্য পাবেন। রপ্তানিকারকদের দাবি, এলপিপির ঢাকা কার্যালয় থেকে নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই তারা ওই প্রতিষ্ঠানে পোশাক রপ্তানি করেছিলেন। এই বকেয়া আদায়ের জন্য গত মাসে দুটি বায়িং হাউসের মালিক এলপিপির ঢাকা কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। মামলার পর এলপিপির কর্মকর্তাদের বাসায় রাতে পুলিশ অভিযানও চালায়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ জুলাই এলপিপি বিজিএমইএ, নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ এবং বায়িং হাউসের মালিকদের সংগঠন বিজিবিএকে চিঠি দিয়ে জানায় যে তারা বাংলাদেশ থেকে ধীরে ধীরে ক্রয়াদেশ কমিয়ে দেবে। পরবর্তীতে ৩১ জুলাই সরবরাহকারীদের চিঠি দিয়ে তারা নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া এবং নতুন পণ্য উন্নয়নের কাজ স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। তবে নতুন সমঝোতার ফলে সেই সংকট কেটে গেছে। বিদায়ী অর্থবছরে এলপিপি বাংলাদেশ থেকে ৭০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক কিনেছিল। চলতি অর্থবছরে তাদের ৭৭ কোটি ডলারের পোশাক আমদানির পরিকল্পনা ছিল এবং সে অনুযায়ী তারা ক্রয়াদেশ দেওয়াও শুরু করেছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo