মিল্কভিটার দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়ল
- আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

বাজারে মিল্কভিটা ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত তরল দুধের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড কর্তৃক উৎপাদিত এই দুধের নতুন দাম ৫ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে খুচরা দোকানে এখন প্রতি লিটার মিল্কভিটা দুধ ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউনহল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫০০ মিলিলিটারের স্ট্যান্ডার্ড দুধ (লো ফ্যাট) এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৫৫ টাকা। এছাড়া আধা লিটার টোন্ড মিল্কের দাম ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে প্রাণ ও ফার্মফ্রেশসহ অন্যান্য বেসরকারি কোম্পানির দুধের দামে এখনো কোনো পরিবর্তন আসেনি। শেখের টেক এলাকার দীপালয় স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. মনির হোসেন জানান, ৬ আগস্ট থেকে সরবরাহকারীরা তাদের দোকানে বাড়তি দামের মিল্কভিটা দুধ দিচ্ছে এবং আড়ংয়ের দুধের দামও বাড়তে পারে বলে তাদের জানানো হয়েছে।
মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্যাকেজিং সামগ্রী, গোখাদ্য, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খরচ বাড়ায় তাদের উৎপাদন ব্যয় লিটারপ্রতি ১১ থেকে সাড়ে ১১ টাকা বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এস এম আমীর হামজা শাতিল জানিয়েছেন, কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ বিল ৫৫-৫৬ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৭২-৭৪ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি গ্যাস-সংকটের কারণে এলপিজি ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা ব্যয় বাড়িয়েছে। এছাড়া খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় ১ আগস্ট থেকে তাদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহের দামও লিটারে তিন টাকা বাড়ানো হয়েছে।
দাম বাড়ানোর পর প্রথম দুই দিনে বিক্রি কিছুটা কমলেও বর্তমানে তা আবার স্বাভাবিক হওয়ার পথে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দাম বাড়ার পর দৈনিক বিক্রি ৭৭ হাজার লিটার থেকে ৪৪ হাজার লিটারে নেমে এসেছিল, তবে বর্তমানে তা আবার প্রায় ৭৫ হাজার ৫০০ লিটারে পৌঁছেছে। মিল্কভিটা মূলত দুধ ছাড়াও দই, মাখন, ঘি, চিজ, কেকসহ ২৫ ধরনের পণ্য বাজারজাত করে থাকে এবং সূত্রমতে, প্রায় সব পণ্যের দামই সমন্বয় করা হয়েছে।
এদিকে, দুধের এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুল ইসলাম বলেন, পুষ্টির অন্যতম সহজলভ্য এই উপকরণের দাম না বাড়িয়ে সরকার উৎপাদন পর্যায়ে কিছুটা ছাড় দিতে পারত। চেয়ারম্যান এস এম আমীর হামজা শাতিল অবশ্য দাবি করেছেন, গত ১২ বছরে নিত্যপণ্যের তুলনায় দুগ্ধ খাতে মূল্যবৃদ্ধি বেশ কম ছিল এবং খামারিদের টিকিয়ে রাখতে এই সমন্বয় জরুরি ছিল।




























