ঢাকা ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শরীয়তপুর পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে তালা ভেঙে ল্যাপটপ ও ট্যাব চুরি এইচএসসি উত্তীর্ণদের শিক্ষাবৃত্তি দেবে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন আজকের পর্দায় বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচসহ নেশন্স লিগের ফুটবল লড়াই কাশীয়ানীতে ১৯৮ ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার ট্রাম্প-শি বৈঠকে সমঝোতা না হলেও যুক্তরাষ্ট্রে আসবে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের টাকা লোপাট: পলাতক কর্মকর্তা শরীফুজ্জামান ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তিতে নতুন রেকর্ড ১০ বছরে পা দিল আব্রাম, ছেলের জন্মদিনে আবেগপ্রবণ অপু মিরপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সহিংসতার নিন্দা জানাল ফ্রান্স

শেয়ারবাজারের সংকট উত্তরণে জরুরি কাঠামোগত সংস্কার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



শেয়ারবাজার কোনোভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন থাকা স্বাভাবিক হলেও, এখানে দরপতন যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের অর্থনীতির আকার ও ব্যাপ্তি বিগত বছরগুলোতে সম্প্রসারিত হলেও, জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি পুঁজিবাজার এর বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও শিল্পায়নের মূল উৎস হওয়ার কথা থাকলেও আমাদের শেয়ারবাজার দিন দিন সংকুচিত ও দুর্বল হয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানির এক-তৃতীয়াংশের বেশি এখন দুর্বল বা ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। তদুপরি, ৩৫টিরও বেশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ কিংবা অস্তিত্বহীন। পুঁজিবাজারের এই ক্রমসংকোচন ও মূলধারার অর্থনীতি থেকে বিচ্যুতি দেশের আর্থিক খাতের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।

একটি প্রাণবন্ত শেয়ারবাজারের পূর্বশর্ত হলো ভালো মৌল ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির উপস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা। কিন্তু বিগত এক থেকে দেড় দশকে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দুর্বল নজরদারি ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সুযোগে বাজারে মানহীন, নামসর্বস্ব ও দুর্বল আর্থিক ভিত্তির কোম্পানির জয়জয়কার ঘটেছে। অস্বচ্ছ ও কারসাজিমূলক আর্থিক বিবরণী জমা দিয়ে বহু কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে, যা পরবর্তীকালে বিনিয়োগকারীদের পুঁজিহরণের হাতিয়ারে পরিণত হয়। আইন ও নিয়মের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা এবং দুর্বল কোম্পানিগুলোকে তালিকাচ্যুত (ডি-লিস্ট) করার কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় বছরের পর বছর ধরে এসব ‘জেড’ শ্রেণির শেয়ারে কারসাজি চলে আসছে, যা সুস্থ বিনিয়োগ পরিবেশের সুশাসনের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

বিশ্বের যেকোনো উদীয়মান অর্থনীতিতে শিল্পায়নের প্রাথমিক ও প্রধান উৎস হয় পুঁজিবাজার। সেখানে বাংলাদেশে শিল্পায়নের পুরো ভার চেপে বসেছে ব্যাংক খাতের ওপর। সরকারের যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিবন্ধিত তিন হাজার সাতশরও বেশি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ ৯০ শতাংশ সম্ভাবনাময় কোম্পানিই পুঁজিবাজারের বাইরে রয়ে গেছে। উদ্যোক্তাদের এই ব্যাংকনির্ভরতা একদিকে যেমন ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের চাপ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সুস্থ ও শক্তিশালী শেয়ারবাজার গড়ার সম্ভাবনাকে রুদ্ধ করছে।

পুঁজিবাজারকে বর্তমান সংকট থেকে টেনে তুলতে হলে এবং এর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে তাৎক্ষণিক ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার জরুরি। বিশেষ করে অতীতের জালিয়াতি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দর কারসাজির সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্র এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন অনুমোদনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ভুয়া আর্থিক বিবরণী জমা দিয়ে যারা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ছাড়াও বন্ধ হয়ে যাওয়া ও তলানিতে ঠেকে থাকা অস্তিত্বহীন কোম্পানিগুলোকে বাজার থেকে দ্রুত তালিকাচ্যুত করার কার্যকর নিয়ম প্রণয়ন করতে হবে, যাতে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের গুণগত মান রক্ষা পায়।

নতুন কমিশনের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত শেয়ারবাজারে ভালো মৌল ভিত্তির ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে আকর্ষণীয় প্রণোদনা ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এনে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষয়ে যাওয়া আস্থা পুনরুদ্ধার করা এখন সময়ের দাবি। পুঁজিবাজারকে কেবল গুটিকয়েক কারসাজিকারীর হাত থেকে মুক্ত করে একটি গতিশীল, অনুশাসনভিত্তিক ও টেকসই অর্থায়নের কেন্দ্রে পরিণত করা না গেলে দেশের সার্বিক শিল্পায়ন ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। আশা করি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বিএসইসি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

শেয়ারবাজারের সংকট উত্তরণে জরুরি কাঠামোগত সংস্কার

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

শেয়ারবাজার কোনোভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন থাকা স্বাভাবিক হলেও, এখানে দরপতন যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের অর্থনীতির আকার ও ব্যাপ্তি বিগত বছরগুলোতে সম্প্রসারিত হলেও, জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি পুঁজিবাজার এর বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও শিল্পায়নের মূল উৎস হওয়ার কথা থাকলেও আমাদের শেয়ারবাজার দিন দিন সংকুচিত ও দুর্বল হয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানির এক-তৃতীয়াংশের বেশি এখন দুর্বল বা ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। তদুপরি, ৩৫টিরও বেশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ কিংবা অস্তিত্বহীন। পুঁজিবাজারের এই ক্রমসংকোচন ও মূলধারার অর্থনীতি থেকে বিচ্যুতি দেশের আর্থিক খাতের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।

একটি প্রাণবন্ত শেয়ারবাজারের পূর্বশর্ত হলো ভালো মৌল ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির উপস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা। কিন্তু বিগত এক থেকে দেড় দশকে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দুর্বল নজরদারি ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সুযোগে বাজারে মানহীন, নামসর্বস্ব ও দুর্বল আর্থিক ভিত্তির কোম্পানির জয়জয়কার ঘটেছে। অস্বচ্ছ ও কারসাজিমূলক আর্থিক বিবরণী জমা দিয়ে বহু কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে, যা পরবর্তীকালে বিনিয়োগকারীদের পুঁজিহরণের হাতিয়ারে পরিণত হয়। আইন ও নিয়মের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা এবং দুর্বল কোম্পানিগুলোকে তালিকাচ্যুত (ডি-লিস্ট) করার কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় বছরের পর বছর ধরে এসব ‘জেড’ শ্রেণির শেয়ারে কারসাজি চলে আসছে, যা সুস্থ বিনিয়োগ পরিবেশের সুশাসনের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

বিশ্বের যেকোনো উদীয়মান অর্থনীতিতে শিল্পায়নের প্রাথমিক ও প্রধান উৎস হয় পুঁজিবাজার। সেখানে বাংলাদেশে শিল্পায়নের পুরো ভার চেপে বসেছে ব্যাংক খাতের ওপর। সরকারের যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিবন্ধিত তিন হাজার সাতশরও বেশি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ ৯০ শতাংশ সম্ভাবনাময় কোম্পানিই পুঁজিবাজারের বাইরে রয়ে গেছে। উদ্যোক্তাদের এই ব্যাংকনির্ভরতা একদিকে যেমন ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের চাপ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সুস্থ ও শক্তিশালী শেয়ারবাজার গড়ার সম্ভাবনাকে রুদ্ধ করছে।

পুঁজিবাজারকে বর্তমান সংকট থেকে টেনে তুলতে হলে এবং এর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে তাৎক্ষণিক ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার জরুরি। বিশেষ করে অতীতের জালিয়াতি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দর কারসাজির সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্র এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন অনুমোদনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ভুয়া আর্থিক বিবরণী জমা দিয়ে যারা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ছাড়াও বন্ধ হয়ে যাওয়া ও তলানিতে ঠেকে থাকা অস্তিত্বহীন কোম্পানিগুলোকে বাজার থেকে দ্রুত তালিকাচ্যুত করার কার্যকর নিয়ম প্রণয়ন করতে হবে, যাতে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের গুণগত মান রক্ষা পায়।

নতুন কমিশনের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত শেয়ারবাজারে ভালো মৌল ভিত্তির ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে আকর্ষণীয় প্রণোদনা ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এনে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষয়ে যাওয়া আস্থা পুনরুদ্ধার করা এখন সময়ের দাবি। পুঁজিবাজারকে কেবল গুটিকয়েক কারসাজিকারীর হাত থেকে মুক্ত করে একটি গতিশীল, অনুশাসনভিত্তিক ও টেকসই অর্থায়নের কেন্দ্রে পরিণত করা না গেলে দেশের সার্বিক শিল্পায়ন ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। আশা করি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বিএসইসি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy