নিত্যপণ্যের চড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ‘চাঁদাবাজি’ কমানোর তাগিদ

- আপডেট সময় : ১০:৪৯:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

নিত্যপণ্যসহ খাদ্যপণ্যের বাজারে গত কয়েক বছর ধরে চলমান চড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ‘আনঅ্যাকাউন্টেড এক্সপেন্স’ বা অনানুষ্ঠানিক ব্যয় কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যশৃঙ্খল: বাজারব্যবস্থা, মুনাফার মার্জিন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে লজিস্টিক খরচ এবং ইনপুট খরচ কমানোর পাশাপাশি চাঁদাবাজির মতো সমস্যাগুলো দূর করতে হবে। তবে তিনি সরাসরি ‘চাঁদাবাজি’ শব্দটি ব্যবহার না করে একে ‘আনঅ্যাকাউন্টেড এক্সপেন্স’ বা হিসাববহির্ভূত ব্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী লজিস্টিক খরচ জিডিপির গড়ে ১০ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে তা ১৬ শতাংশ। এছাড়া বাজারে তথ্য সরবরাহের কাঠামো বা মেকানিজমের অভাব ও মার্কেট অ্যাসিমেট্রিজের কারণে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি আলুর বাজারের অসামঞ্জস্যের কথা তুলে ধরেন, যেখানে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার পরও উৎপাদন অব্যাহত রাখছে, যা প্রপার ইনফরমেশনের অভাব নির্দেশ করে।
সরকার কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহ শৃঙ্খলে ‘ট্রেসেবিলিটি’ বা পণ্য শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে বলে মন্ত্রী জানান। এর মাধ্যমে অস্বাভাবিক ব্যয় বা মূল্যবৃদ্ধির পর্যায়গুলো চিহ্নিত করা সহজ হবে।
সংলাপে মূল প্রবন্ধে সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ফখরুদ্দিন আল কবির জানান, উৎপাদন পর্যায় থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত চালের দাম ১০০ শতাংশ, কাঁচামরিচের দাম ১১৬ শতাংশ, পেঁয়াজের দাম ৮৭ শতাংশ, মসুর ডালের দাম ৭৮ শতাংশ এবং বেগুনের দাম ৭২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। আলুর ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ৫০ শতাংশ। গবেষকরা জানান, পঁচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে মুনাফার মার্জিন বেশি থাকে। তবে কৃষি অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেন যে, কৃষকের উচ্চ সুদে ঋণ গ্রহণ, আবহাওয়া ঝুঁকি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় না নিয়ে কেবল উৎপাদন ও বিক্রয়মূল্যের পার্থক্য দিয়ে প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।
সংলাপে ঢাকা চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি শোয়াইব চৌধুরী কৃষিপণ্যের দাম কমাতে রাতে যাত্রীবাহী ট্রেনে বাড়তি বগি যুক্ত করে পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দেন।




























