গাজী নজরুল ইসলামের বাসা থেকে উদ্ধার মরিয়মের চিঠিতে যা লেখা
- আপডেট সময় : ১০:৫৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বাসা থেকে উদ্ধার করা হাতে লেখা বেশ কিছু চিঠিতে সম্পর্কের টানাপোড়েন, গভীর ভালোবাসা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং মানসিক যন্ত্রণার নানা দিক উঠে এসেছে। জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাড এবং সাধারণ কাগজে লেখা এসব চিঠিতে পরাজয়ের আক্ষেপ ও আত্মসম্মান রক্ষার কঠিন ঘোষণার মতো বিষয়গুলো প্রকাশ পেয়েছে।
একটি চিঠিতে আক্ষেপ প্রকাশ করে লেখা হয়েছে, আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি। অন্য একটি পাতায় নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে লেখা হয়েছে, সে ছিল অন্য নারীর স্বামী- কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ-এর। আর আমি ছিলাম বোকা। অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ। কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ। ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়, ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ।
প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে অন্য একটি পাতায় লেখা হয়েছে, সে বলেছিল- আজ থেকে আমরা বন্ধু, চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি। ক্ষোভ প্রকাশ করে আরেক জায়গায় লেখা হয়েছে, আমি হেরেছি, তুমি জিতেছো। কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। দেখে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ। নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখতে লাল কালিতে লেখা একটি বার্তায় বলা হয়েছে, শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই, তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই।
চিঠিগুলোর সঙ্গে ১২-০৭-২০২৬ তারিখ সংবলিত একটি পাতাও পাওয়া গেছে, যেখানে ঘুমানোর আগে পালনীয় ছয়টি ধর্মীয় আমলের তালিকা দেওয়া ছিল। উল্লেখ্য, ২০ সেপ্টেম্বর রোববার রাজধানীর শেরে বাংলা নগর এলাকার ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পাতাটিতে লেখা- ‘১২-০৭-২০২৬ ঘুমানোর আগে ৬টি আমল : কালেমা পড়ে, দুরুদ শরীফ, ঘুমের দোয়া, আয়াতুল কুরসী, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম ২১ বার, আস্তাগফিরুল্লাহ ৩ বার, আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া এহিয়া, দুরুদ শরীফ ১১ বার, ইয়া আরহামার রাহিমিন ১১ বার।’ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগর এলাকার জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে





























