ভোরের ভারি বৃষ্টিতে স্থবির রাজধানী, বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে জনদুর্ভোগ
- আপডেট সময় : ১০:২৩:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দমকা বাতাসসহ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। বজ্রসহ এই ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রামপুরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
জলাবদ্ধতার কবলে পড়া এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মুগদা, খিলগাঁও, সবুজবাগ, গোড়ান, মানিকনগর, তালতলা, মতিঝিল, মালিবাগ, আরামবাগ, গুলিস্তান ও পল্টন। কোথাও কোথাও পানি জমে হাঁটু থেকে কোমর সমান উচ্চতায় পৌঁছেছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে মানিকনগরের ব্যবসায়িক এলাকার অনেক দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। মালিবাগে প্রধান সড়ক ছাপিয়ে ফুটপাত ও বিভিন্ন দোকানে পানি ঢুকে পড়ে।
রাস্তায় পানি জমে থাকায় রিকশা ও গণপরিবহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। অনেক যাত্রী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও যানবাহন পাচ্ছেন না। মতিঝিলের রিকশাচালক মোতালেব হোসেন জানান, পানির উচ্চতা বেশি হওয়ায় প্যাডেল মারা কঠিন হয়ে পড়ছে, এছাড়া সড়কের গর্তগুলোও পানির নিচে থাকায় ঝুঁকি বাড়ছে। গোড়ান এলাকার বাসিন্দা মো. সোহাগ জানান, এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও রিকশা পাননি, পেলেও ভাড়া স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি চাওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই জলাবদ্ধতার জন্য অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে দায়ী করেছেন। গোড়ান রোডের বাসিন্দা তানজিল হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখে আসছেন। বড় পাইপ বসানো হলেও সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না, ফলে প্লাস্টিক ও পলিথিন জমে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। আব্দুল মালেক নামের আরেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এবং ডাস্টবিনের বর্জ্য পাইপলাইনে জমে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন।





























