ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের পর আজমুলের মৃত্যুতে গ্রেফতার ১ বার্লিন বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা গোলান মালভূমি সিরিয়ারই থাকবে, জাতিসংঘে আল-শারার ঘোষণা ভোলায় এনসিপির কমিটি ঘোষণার পরপরই সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ এফবিআইয়ের হাজারো কর্মকর্তার সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের তেলুগু তারকা নানির ক্যারিয়ার, সম্পদ ও আসন্ন সিনেমার গল্প জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সৌন্দর্যের ভেতর ইতিহাসের শরীর: হেগেল ও মার্কসের নন্দনতত্ত্বের তুলনামূলক পাঠ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে: এস এম জিলানী

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন, সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জুলাই আন্দোলনে আহত এক ব্যক্তিকে সরকারি সহায়তার চেক দেওয়ার নামে অর্থ দাবি, শারীরিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে এই আবেদন করেন ভুক্তভোগী জুলাইযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করার পর অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী ইয়ামিন মিয়া মামলার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর, আফজালু রহমান সায়েম, হারুন অর রশীদ, কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াছিন মোল্লা।

মামলার আরজিতে বাদী গিয়াস উদ্দিন উল্লেখ করেন, জুলাইযোদ্ধা হিসেবে তিনি জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে চেক নিতে যান। তবে সেখানে চেক না পেয়ে তিনি বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, তাসনিম জারা ও স্নিগ্ধকে জানান। তারা তাকে আশ্বস্ত করেন যে ফাউন্ডেশনে গেলে তাকে চেক দেওয়া হবে। কিন্তু পরবর্তীতে ফাউন্ডেশনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্তরা তাকে ‘আজ নয়, কাল’ বলে নানাভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৩ মে চেক নেওয়ার উদ্দেশ্যে রমনা মডেল থানার আওতাধীন এলাকায় অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে যান গিয়াস উদ্দিন। সেখানে তাকে জানানো হয়, ৩ লাখ টাকার চেকের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ দেড় লাখ টাকা তাদের দিলে তবেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে তাকে চেক দেওয়া হবে। গিয়াস উদ্দিন এই প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে কৌশলে একটি গোপন কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, ওই কক্ষে নেওয়ার পর মেহেদী হাসান প্রিন্স ও সাগর তার দুই হাত চেপে ধরেন। এ সময় শাহিদ ও সায়েম তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দেওয়া হলে দেয়ালের রডের সঙ্গে মাথায় আঘাত লেগে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

বাদী জানান, জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান তার শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। তিনি চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে শাহিদ, সায়েম ও কামরুল তাকে পুনরায় মারধর করে সেখান থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে হারুন ও কামরুল তাকে ফাউন্ডেশনের লিফটের সামনে ফেলে রেখে যান। এরপর গিয়াস উদ্দিনের ছেলে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।

মামলার আবেদনে গিয়াস উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তিনি থানায় গিয়ে মামলা করার চেষ্টা করলেও পুলিশ মামলা না নিয়ে সময়ক্ষেপণ করে। পরবর্তীতে তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন, সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ

আপডেট সময় : ০২:২৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই আন্দোলনে আহত এক ব্যক্তিকে সরকারি সহায়তার চেক দেওয়ার নামে অর্থ দাবি, শারীরিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে এই আবেদন করেন ভুক্তভোগী জুলাইযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করার পর অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী ইয়ামিন মিয়া মামলার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর, আফজালু রহমান সায়েম, হারুন অর রশীদ, কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াছিন মোল্লা।

মামলার আরজিতে বাদী গিয়াস উদ্দিন উল্লেখ করেন, জুলাইযোদ্ধা হিসেবে তিনি জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে চেক নিতে যান। তবে সেখানে চেক না পেয়ে তিনি বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, তাসনিম জারা ও স্নিগ্ধকে জানান। তারা তাকে আশ্বস্ত করেন যে ফাউন্ডেশনে গেলে তাকে চেক দেওয়া হবে। কিন্তু পরবর্তীতে ফাউন্ডেশনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্তরা তাকে ‘আজ নয়, কাল’ বলে নানাভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৩ মে চেক নেওয়ার উদ্দেশ্যে রমনা মডেল থানার আওতাধীন এলাকায় অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে যান গিয়াস উদ্দিন। সেখানে তাকে জানানো হয়, ৩ লাখ টাকার চেকের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ দেড় লাখ টাকা তাদের দিলে তবেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে তাকে চেক দেওয়া হবে। গিয়াস উদ্দিন এই প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে কৌশলে একটি গোপন কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, ওই কক্ষে নেওয়ার পর মেহেদী হাসান প্রিন্স ও সাগর তার দুই হাত চেপে ধরেন। এ সময় শাহিদ ও সায়েম তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দেওয়া হলে দেয়ালের রডের সঙ্গে মাথায় আঘাত লেগে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

বাদী জানান, জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান তার শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। তিনি চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে শাহিদ, সায়েম ও কামরুল তাকে পুনরায় মারধর করে সেখান থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে হারুন ও কামরুল তাকে ফাউন্ডেশনের লিফটের সামনে ফেলে রেখে যান। এরপর গিয়াস উদ্দিনের ছেলে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।

মামলার আবেদনে গিয়াস উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তিনি থানায় গিয়ে মামলা করার চেষ্টা করলেও পুলিশ মামলা না নিয়ে সময়ক্ষেপণ করে। পরবর্তীতে তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh