ঢাকা ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদি আরবে হামলার জেরে দাম্মাম ও রিয়াদে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত নোয়াখালীতে গ্যারেজে অভিযান, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ আটক ৩ রংপুর রেঞ্জে সেরা নীলফামারী জেলা পুলিশ ৩৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে ‘ব্রেকিং ব্যাড’ অভিনেতা আরজে মেটি সানজি গ্রুপের ১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ: এজিএম পার্থ সারথী গ্রেপ্তার আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় আঘাত: পিল্লাই ভোট চুরির পর এবার বিক্ষোভের স্থানও চুরি করছে মোদি সরকার চরফ্যাশনে সারের ডিলারশিপ বিতর্কে স্ট্যাম্পে লিখে দায়িত্ব হস্তান্তর যুবদল নেতার শাহজালালে আটকা ১৩ হাজার যাত্রী, বাতিল ৮২ ফ্লাইট বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন করতে চায় সরকার : সালাহউদ্দিন আহমদ

মালিবাগে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২৫:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানীর মালিবাগ ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সের দোকান ও ফ্ল্যাট দখলকে কেন্দ্র করে মালিক সমিতির বিরোধের জেরে এক ব্যবসায়ীকে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম মো. ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়া। তিনি ওই শপিং কমপ্লেক্সের দোকান ও ফ্ল্যাট সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। গত ২১ আগস্ট (শুক্রবার) দুপুর ১২টার দিকে শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাস্ক পরা কয়েকজন লোক ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়াকে ধরে টানাহেঁচড়া করছেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে একজন ইসমাইলের পকেটে একটি প্যাকেট ঢুকিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থলে অপেক্ষমাণ থাকা রমনা থানা পুলিশ এসে ইসমাইলকে আটক করে। পুলিশ দাবি করে, তার প্যান্টের পেছনের পকেট থেকে ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে।

ইসমাইলের পরিবারের অভিযোগ, তাকে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এবং ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় ইসমাইল তার মেয়ে ইমতিশাকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে ফিরছিলেন। ইমতিশা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইমতিশা জানায়, সে তার বাবার সঙ্গে ইবনে সিনা হাসপাতালে গিয়েছিল। সেখান থেকে বাসায় ফেরার পথে কিছু লোক তার বাবাকে ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে এবং সিঁড়ি থেকে ফেলে দেয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে একজন তার বাবার পকেটে কিছু একটা ঢুকিয়ে দেয়। এরপরই পুলিশ এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়।

ইসমাইলের বড় ভাই মো. খোরশেদ আলম বাবুল জানান, ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সে দুটি পক্ষ রয়েছে। শ্যাম দুলাল ও নাসির উদ্দিন দুলাল নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জাল দলিল তৈরি করে প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। মার্কেটের অন্যরা তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তারা ইসমাইলকে হয়রানির চেষ্টা শুরু করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ এসে ইসমাইলকে আটক করলেও যারা ধস্তাধস্তি করে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়েছিল, তাদের কাউকে আটক করেনি।

এদিকে, ইসমাইলের বিরুদ্ধে মাদক মামলার পাশাপাশি একটি কথিত চাঁদাবাজির মামলাও দেওয়া হয়েছে। মামলার এজাহারে দাবি করা হয়, গত ২৪ জুলাই মার্কেটের সামনে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া মাহফিল এবং পরবর্তীতে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের সুস্থতার জন্য দোয়ার আয়োজন করতে চাইলে মার্কেট ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এই মামলায় ইসমাইল ছাড়াও সমিতির আরও ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

চাঁদাবাজি মামলার বাদী জাবেদ রায়হানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানার এসআই মো. উজ্জ্বলের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সের দোকান ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন দুলাল ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দোকান দখলসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুলাল ও তার সহযোগীরা পালিয়ে গেলে মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিরোধ তৈরি হয়। এরপর রমনা থানা বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মার্কেট দখলের অভিযোগ ওঠে, যা ইসমাইলসহ সমিতির অন্য সদস্যরা বাধা দিলে বিরোধ আরও চরম আকার ধারণ করে।

এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসিন মিয়া জানান, চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় এসআই মো. উজ্জ্বল তল্লাশি চালিয়ে ইসমাইলের প্যান্টের পেছনের পকেট থেকে ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন এবং আইন অনুযায়ী মাদক মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ তারাও দেখেছেন। তবে সেখানে কেউ মাদক ঢুকিয়ে দিয়েছে কি না, তা তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগসাজশের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

মালিবাগে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ

আপডেট সময় : ০২:২৫:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর মালিবাগ ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সের দোকান ও ফ্ল্যাট দখলকে কেন্দ্র করে মালিক সমিতির বিরোধের জেরে এক ব্যবসায়ীকে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম মো. ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়া। তিনি ওই শপিং কমপ্লেক্সের দোকান ও ফ্ল্যাট সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। গত ২১ আগস্ট (শুক্রবার) দুপুর ১২টার দিকে শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাস্ক পরা কয়েকজন লোক ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়াকে ধরে টানাহেঁচড়া করছেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে একজন ইসমাইলের পকেটে একটি প্যাকেট ঢুকিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থলে অপেক্ষমাণ থাকা রমনা থানা পুলিশ এসে ইসমাইলকে আটক করে। পুলিশ দাবি করে, তার প্যান্টের পেছনের পকেট থেকে ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে।

ইসমাইলের পরিবারের অভিযোগ, তাকে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এবং ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় ইসমাইল তার মেয়ে ইমতিশাকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে ফিরছিলেন। ইমতিশা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইমতিশা জানায়, সে তার বাবার সঙ্গে ইবনে সিনা হাসপাতালে গিয়েছিল। সেখান থেকে বাসায় ফেরার পথে কিছু লোক তার বাবাকে ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে এবং সিঁড়ি থেকে ফেলে দেয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে একজন তার বাবার পকেটে কিছু একটা ঢুকিয়ে দেয়। এরপরই পুলিশ এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়।

ইসমাইলের বড় ভাই মো. খোরশেদ আলম বাবুল জানান, ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সে দুটি পক্ষ রয়েছে। শ্যাম দুলাল ও নাসির উদ্দিন দুলাল নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জাল দলিল তৈরি করে প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। মার্কেটের অন্যরা তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তারা ইসমাইলকে হয়রানির চেষ্টা শুরু করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ এসে ইসমাইলকে আটক করলেও যারা ধস্তাধস্তি করে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়েছিল, তাদের কাউকে আটক করেনি।

এদিকে, ইসমাইলের বিরুদ্ধে মাদক মামলার পাশাপাশি একটি কথিত চাঁদাবাজির মামলাও দেওয়া হয়েছে। মামলার এজাহারে দাবি করা হয়, গত ২৪ জুলাই মার্কেটের সামনে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া মাহফিল এবং পরবর্তীতে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের সুস্থতার জন্য দোয়ার আয়োজন করতে চাইলে মার্কেট ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এই মামলায় ইসমাইল ছাড়াও সমিতির আরও ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

চাঁদাবাজি মামলার বাদী জাবেদ রায়হানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানার এসআই মো. উজ্জ্বলের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সের দোকান ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন দুলাল ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দোকান দখলসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুলাল ও তার সহযোগীরা পালিয়ে গেলে মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিরোধ তৈরি হয়। এরপর রমনা থানা বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মার্কেট দখলের অভিযোগ ওঠে, যা ইসমাইলসহ সমিতির অন্য সদস্যরা বাধা দিলে বিরোধ আরও চরম আকার ধারণ করে।

এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসিন মিয়া জানান, চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় এসআই মো. উজ্জ্বল তল্লাশি চালিয়ে ইসমাইলের প্যান্টের পেছনের পকেট থেকে ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন এবং আইন অনুযায়ী মাদক মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ তারাও দেখেছেন। তবে সেখানে কেউ মাদক ঢুকিয়ে দিয়েছে কি না, তা তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগসাজশের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor