বিমানবন্দর এলাকা: উচ্ছেদ অভিযান হলেও ফুটপাত দখলমুক্ত হয় না কেন?
- আপডেট সময় : ০৫:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজারো যাত্রী এই পথ দিয়ে রাজধানীতে প্রবেশ করেন। অথচ বিমানবন্দর থেকে বের হলেই যেন বদলে যায় দৃশ্যপট। ফুটপাত দখল করে ভাসমান দোকান, হকারের পসরা, ভিক্ষুক ও পথশিশুদের উৎপাত এবং যানজট ও অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের মতো সমস্যাগুলো নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে বিমানবন্দর এলাকার শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলছেন।
সম্প্রতি বিমানবন্দর এলাকায় ভিক্ষুক, ভবঘুরে ও মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানে ৮২ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই পরিস্থিতি আবার আগের জায়গায় ফিরে আসে। ব্যস্ত সড়কের বড় অংশের ফুটপাত হকার ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের দখলে থাকায় সাধারণ পথচারী ও লাগেজ বহনকারী যাত্রীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভাসমান ব্যবসায়ী জানান, হকারদের কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে নিয়মিত চাঁদা তোলা হয়। দোকানের জায়গা পেতেও শুরুতে টাকা দিতে হয়। স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেছেন অনেকে। পথচারীদের অভিযোগ, ফুটওভার ব্রিজে ভিক্ষুক ও পথশিশুরা ঘিরে ধরে টাকা চাওয়ায় বিদেশফেরত যাত্রীসহ অনেকেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও আটককৃতরা জামিনে বেরিয়ে আবারও একই কাজে জড়িয়ে পড়েন। পথশিশুদের সমাজসেবা অধিদপ্তরে হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও আসনসংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পুলিশ মাঝে মাঝে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করলেও প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার কারণে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, চাঁদাবাজির অভিযোগের তদন্ত, অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং পথশিশু ও ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন। বিমানবন্দর এলাকার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।





























