মাইলস্টোনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের এক বছর, নিহতদের স্মরণে নানা কর্মসূচি

- আপডেট সময় : ০২:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই)। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে নিহতদের স্মরণ এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় দোয়া ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে মাইলস্টোনের দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে একটি দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া একই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ১৬টি শাখায় পৃথকভাবে দোয়া ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসের অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের স্মরণ করতে এখানে সমবেত হয়েছে। তারা নিহত সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা প্রার্থনা করছে।
নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং আহতদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে দুই দিনের কর্মসূচি নিয়েছে মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ। অধ্যক্ষ জানান, আগামীকাল দুর্ঘটনাস্থলটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। সেখানে স্কাউট ও রোভার সদস্যরা গার্ড অব অনার দেবেন। এছাড়া নিহতদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, এক মিনিট নীরবতা পালন, দোয়া এবং স্মৃতিচারণার আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি নিহতদের ছবি, বন্ধুদের লেখা স্মৃতিকথা ও বিভিন্ন বার্তা সেখানে প্রদর্শন করা হবে। আগামীকালের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকেরাও উপস্থিত থাকবেন।
আজকের স্মরণসভায় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সূর্য সময় বিশ্বাস সেই ভয়াল দিনের বর্ণনা দেয়। সে জানায়, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর সে ও তার সহপাঠীরা দোতলার একটি কক্ষে আটকা পড়েছিল। চারদিকে আগুন, ধোঁয়া এবং আহত বন্ধুদের আর্তনাদে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। শিক্ষকেরা লোহার গ্রিল ভেঙে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন। পরে সে বাইরে থাকা উদ্ধারকারীদের ইশারায় সহপাঠীদের নিয়ে নিরাপদে বের হতে সক্ষম হয়। সহপাঠীদের হারিয়ে সূর্য সময় বিশ্বাস আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলে, আমি কখনোই ওদের ভুলতে পারব না।
গত বছরের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে মোট ৩৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ২৮ জনই ছিলেন শিক্ষার্থী। এছাড়া যুদ্ধবিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও প্রাণ হারান। ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও আহতদের অনেকে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। এছাড়া নিহত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
























