ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এআই প্রযুক্তিতে দ্রুত ধরা পড়ছে ত্রুটি, সাইবার ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের দেড় কোটি পাউন্ডের ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ ঢাকার বাজারে শীতের সবজি ও ডিমে স্বস্তি, বেড়েছে মুরগির দাম ভারতে গরু পাচারের অভিযোগে পুলিশের গুলিতে আহত শত শত মুসলিম চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতার দোকান থেকে লুট হওয়া চিনি উদ্ধার ভোলায় ইউপি নির্বাচন: ভেদুরিয়ায় জনসংযোগ ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি জাকিরের কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে আদাবর ছাত্রদলের নয়েন গ্রেপ্তার ভালভার্দের নতুন ভূমিকায় রিয়াল মাদ্রিদের কৌশলগত চমক ফুলবাড়ীয়ায় সেচ পাম্পে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু মাদকমুক্ত তরুণ সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

প্রতিষ্ঠার ২৯ বছর পরও দূর হয়নি লক্ষ্মীপুর বিসিকের নানামুখী সংকট

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৫০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকায় ১৬ একর জমির ওপর ১৯৯৭ সালে বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলে সরকার। উপকূলীয় এই জনপদে সস্তা শ্রম, দেশের ২১টি জেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ সুবিধা এবং ব্যাপক কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা থাকলেও প্রতিষ্ঠার ২৯ বছরেও সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই বিসিক শিল্পনগরীতে গ্যাস ও পানির তীব্র সংকট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা, লোডশেডিং, বাতিহীন ল্যাম্পপোস্ট এবং নিরাপত্তাপ্রাচীর না থাকায় প্রত্যাশা অনুযায়ী শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি। বারবার অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।

শিল্পনগরী সূত্রে জানা যায়, বেকারত্ব দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে ২০০০ সাল থেকে প্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখানে তিন ধাপে মোট ৫৪টি শিল্প ইউনিটের অনুকূলে ৯৯টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলেও বর্তমানে মাত্র ৩০টির মতো কারখানা চালু রয়েছে। মূল সড়কের পাশে অবস্থিত হলেও বিসিক শিল্পনগরীটি সহজে চেনার সুযোগ নেই; কারণ প্রবেশমুখে কোনো মূল ফটক বা সীমানাপ্রাচীর নেই। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি নারী শ্রমিকেরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও বর্ষায় হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় মালামাল পরিবহনে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানকে চরম ঝুঁকিতে পড়তে হয়। ড্রেনে বর্জ্য জমে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ার পাশাপাশি ধুলাবালিতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বর্তমানে এখানে অয়েল মিল, বেকারি, চকলেট তৈরির কারখানা, সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, অটোরাইস মিল ও মবিল রিপ্যাকিং মিলের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে কারখানার মালিক আব্দুর রহমান জানান, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশাই এখানকার অব্যবস্থাপনার বড় প্রমাণ। কারখানায় মালামাল আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি কার্যকর কোনো পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় তারা বিপাকে পড়েছেন। মিতালি বেকারির কর্মী আবদুল কুদ্দুস বলেন, সড়ক সংস্কারে মাঝেমধ্যে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়, যা কিছুদিন পরই আবার ভেঙে যায়। ভাইয়া গ্রুপের কর্মকর্তা বেলাল হোসেন জানান, ড্রেন নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জমে থাকা পানিতে রোগজীবাণু ও মশার বংশবিস্তার বাড়ছে। যাতায়াতব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় এক কারখানা থেকে অন্য কারখানায় মালামাল সরাতেও বেগ পেতে হচ্ছে।

বিদ্যমান সব সমস্যা স্বীকার করে লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মো. জুয়েল চৌধুরী জানান, অবকাঠামোগত উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি প্রধান ফটক নির্মাণ ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। গত দুই অর্থবছরে সড়কের বেশ কিছু সংস্কার কাজ করা হয়েছে এবং আগামী দুই অর্থবছরের প্রাক্কলন বাস্তবায়িত হলে সড়ক সমস্যা স্থায়ীভাবে দূর হবে বলে তিনি আশা করছেন। এ ছাড়া পৌরসভা কর্তৃক ড্রেন নির্মাণ কাজ শেষের দিকে, নিজস্ব ডাম্পিং ইয়ার্ডের কাজ চলমান রয়েছে এবং নতুন সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে। প্লট বরাদ্দ নিয়ে যাঁরা এখনো উৎপাদনে যাননি, তাঁদের দ্রুত কারখানা সচল করার আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রতিষ্ঠার ২৯ বছর পরও দূর হয়নি লক্ষ্মীপুর বিসিকের নানামুখী সংকট

আপডেট সময় : ১০:৫০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকায় ১৬ একর জমির ওপর ১৯৯৭ সালে বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলে সরকার। উপকূলীয় এই জনপদে সস্তা শ্রম, দেশের ২১টি জেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ সুবিধা এবং ব্যাপক কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা থাকলেও প্রতিষ্ঠার ২৯ বছরেও সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই বিসিক শিল্পনগরীতে গ্যাস ও পানির তীব্র সংকট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা, লোডশেডিং, বাতিহীন ল্যাম্পপোস্ট এবং নিরাপত্তাপ্রাচীর না থাকায় প্রত্যাশা অনুযায়ী শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি। বারবার অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।

শিল্পনগরী সূত্রে জানা যায়, বেকারত্ব দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে ২০০০ সাল থেকে প্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখানে তিন ধাপে মোট ৫৪টি শিল্প ইউনিটের অনুকূলে ৯৯টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলেও বর্তমানে মাত্র ৩০টির মতো কারখানা চালু রয়েছে। মূল সড়কের পাশে অবস্থিত হলেও বিসিক শিল্পনগরীটি সহজে চেনার সুযোগ নেই; কারণ প্রবেশমুখে কোনো মূল ফটক বা সীমানাপ্রাচীর নেই। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি নারী শ্রমিকেরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও বর্ষায় হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় মালামাল পরিবহনে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানকে চরম ঝুঁকিতে পড়তে হয়। ড্রেনে বর্জ্য জমে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ার পাশাপাশি ধুলাবালিতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বর্তমানে এখানে অয়েল মিল, বেকারি, চকলেট তৈরির কারখানা, সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, অটোরাইস মিল ও মবিল রিপ্যাকিং মিলের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে কারখানার মালিক আব্দুর রহমান জানান, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশাই এখানকার অব্যবস্থাপনার বড় প্রমাণ। কারখানায় মালামাল আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি কার্যকর কোনো পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় তারা বিপাকে পড়েছেন। মিতালি বেকারির কর্মী আবদুল কুদ্দুস বলেন, সড়ক সংস্কারে মাঝেমধ্যে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়, যা কিছুদিন পরই আবার ভেঙে যায়। ভাইয়া গ্রুপের কর্মকর্তা বেলাল হোসেন জানান, ড্রেন নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জমে থাকা পানিতে রোগজীবাণু ও মশার বংশবিস্তার বাড়ছে। যাতায়াতব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় এক কারখানা থেকে অন্য কারখানায় মালামাল সরাতেও বেগ পেতে হচ্ছে।

বিদ্যমান সব সমস্যা স্বীকার করে লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মো. জুয়েল চৌধুরী জানান, অবকাঠামোগত উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি প্রধান ফটক নির্মাণ ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। গত দুই অর্থবছরে সড়কের বেশ কিছু সংস্কার কাজ করা হয়েছে এবং আগামী দুই অর্থবছরের প্রাক্কলন বাস্তবায়িত হলে সড়ক সমস্যা স্থায়ীভাবে দূর হবে বলে তিনি আশা করছেন। এ ছাড়া পৌরসভা কর্তৃক ড্রেন নির্মাণ কাজ শেষের দিকে, নিজস্ব ডাম্পিং ইয়ার্ডের কাজ চলমান রয়েছে এবং নতুন সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে। প্লট বরাদ্দ নিয়ে যাঁরা এখনো উৎপাদনে যাননি, তাঁদের দ্রুত কারখানা সচল করার আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh