ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফুলবাড়ীয়ায় সেচ পাম্পে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু মাদকমুক্ত তরুণ সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি রৌমারীতে মাদকাসক্ত ভাতিজার শাবলের আঘাতে চাচি নিহত, আহত ৩ কক্সবাজারে হোটেলে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন তিন শতাধিক পর্যটক বৈশ্বিক ঋণ ৩৬৫ লাখ কোটি ডলার ছাড়ালো, শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র; বাংলাদেশ ৪৫তম দেশে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তারে বাড়ছে উদ্বেগ ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই ছাপানো বন্ধ, পরিবর্তন হচ্ছে প্রজ্ঞার প্রতীক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের তারকা-সমর্থন, রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক অস্ত্র মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন, জনসমক্ষে না আসার কারণ নিরাপত্তা ঈদগাঁও থানা হাজত থেকে পালানো কিশোর পরদিন আটক

মাদকমুক্ত তরুণ সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:১৪:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখা, মোবাইল আসক্তি দূর করা এবং হতাশা থেকে মুক্ত রাখতে খেলাধুলার প্রসারের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় স্টেডিয়ামে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে 'আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬'-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, খেলাধুলা তরুণদের মাঝে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। তাই একটি সুস্থ জাতি গঠন ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় ক্রীড়াঙ্গনকে বিস্তৃত করা অতীব জরুরি।

অ্যাথলেটিকসকে ক্রীড়ার জননী হিসেবে আখ্যায়িত করে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, এখানে একজন অ্যাথলেটের গতি, শক্তি, ক্ষিপ্রতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার প্রকৃত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এই খেলার ভিত্তি সুদৃঢ় হলে অন্যান্য খেলাতেও দেশের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ানো এবং বিজয়মঞ্চে জাতীয় সংগীত বাজানোকে পুরো জাতির জন্য চরম গৌরবের বিষয় হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, তখন আমাদের একমাত্র পরিচয় হয় আমরা বাংলাদেশি। তাই নিজেদের মানসম্পন্ন খেলোয়াড় তৈরি করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য ছিনিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, তৃণমূল পর্যায় থেকে সব ধরনের খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সরকার সুস্থ জাতি গঠন, খেলাধুলার বিস্তার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে বলে জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর অংশ হিসেবে স্পোর্টস কার্ড, স্পোর্টস অ্যালাউন্স, তৃণমূল থেকে নতুন প্রতিভা অন্বেষণ এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে সেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তিনি বেদখল হওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার, সংরক্ষণ এবং নতুন স্থান চিহ্নিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। একই সাথে নারী অ্যাথলেটদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। আর্থিক অনটনের কারণে যেন কোনো সুপ্ত প্রতিভা ঝরে না পড়ে, সে জন্য স্কুল, কলেজ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ তৈরিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রতিযোগিতা থেকে ভবিষ্যতের বহু প্রতিভাবান অ্যাথলেট উঠে আসবে, যারা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করবে।

এই প্রতিযোগিতাটিকে দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্টেডিয়ামে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ৫৭টি দলের আকর্ষণীয় মার্চ পাস্ট অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিযোগিতার থিম সং পরিবেশন করা হয়। সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ ও সুমিতা রানী দাস আনুষ্ঠানিকভাবে গেমসের মশাল প্রজ্জ্বলন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি ১০০ মিটারের পুরুষ ও নারী স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন এবং বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

মাদকমুক্ত তরুণ সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় : ১১:১৪:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখা, মোবাইল আসক্তি দূর করা এবং হতাশা থেকে মুক্ত রাখতে খেলাধুলার প্রসারের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় স্টেডিয়ামে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে 'আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬'-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, খেলাধুলা তরুণদের মাঝে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। তাই একটি সুস্থ জাতি গঠন ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় ক্রীড়াঙ্গনকে বিস্তৃত করা অতীব জরুরি।

অ্যাথলেটিকসকে ক্রীড়ার জননী হিসেবে আখ্যায়িত করে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, এখানে একজন অ্যাথলেটের গতি, শক্তি, ক্ষিপ্রতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার প্রকৃত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এই খেলার ভিত্তি সুদৃঢ় হলে অন্যান্য খেলাতেও দেশের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ানো এবং বিজয়মঞ্চে জাতীয় সংগীত বাজানোকে পুরো জাতির জন্য চরম গৌরবের বিষয় হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, তখন আমাদের একমাত্র পরিচয় হয় আমরা বাংলাদেশি। তাই নিজেদের মানসম্পন্ন খেলোয়াড় তৈরি করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য ছিনিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, তৃণমূল পর্যায় থেকে সব ধরনের খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সরকার সুস্থ জাতি গঠন, খেলাধুলার বিস্তার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে বলে জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর অংশ হিসেবে স্পোর্টস কার্ড, স্পোর্টস অ্যালাউন্স, তৃণমূল থেকে নতুন প্রতিভা অন্বেষণ এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে সেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তিনি বেদখল হওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার, সংরক্ষণ এবং নতুন স্থান চিহ্নিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। একই সাথে নারী অ্যাথলেটদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। আর্থিক অনটনের কারণে যেন কোনো সুপ্ত প্রতিভা ঝরে না পড়ে, সে জন্য স্কুল, কলেজ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ তৈরিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রতিযোগিতা থেকে ভবিষ্যতের বহু প্রতিভাবান অ্যাথলেট উঠে আসবে, যারা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করবে।

এই প্রতিযোগিতাটিকে দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্টেডিয়ামে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ৫৭টি দলের আকর্ষণীয় মার্চ পাস্ট অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিযোগিতার থিম সং পরিবেশন করা হয়। সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ ও সুমিতা রানী দাস আনুষ্ঠানিকভাবে গেমসের মশাল প্রজ্জ্বলন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি ১০০ মিটারের পুরুষ ও নারী স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন এবং বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh