মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন, জনসমক্ষে না আসার কারণ নিরাপত্তা
- আপডেট সময় : ০৭:৫০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং নিয়মিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন বলে দাবি করেছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আবদুল মাজিদ হাকিম ইলাহি। তিনি জানান, নিরাপত্তার খাতিরেই তাকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। ইলাহির ভাষ্যমতে, গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাত ঘণ্টার একটি দীর্ঘ বৈঠক করেছেন মোজতবা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইলাহি দাবি করেন, মোজতবা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ করছেন। তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি পার্লামেন্টের স্পিকারও সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের কথা জানিয়েছেন। তার পরিচিত একাধিক ব্যক্তি মোজতবার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা ভালো বলে নিশ্চিত করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বাবা ও তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পর থেকে তিনি মূলত লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই তার বক্তব্য প্রকাশ করে আসছেন।
মোজতবার বাবার শেষকৃত্যে তার অনুপস্থিতি নিয়ে যে গুঞ্জন রয়েছে, তা-ও নাকচ করেছেন ইলাহি। তিনি দাবি করেন, ওই সময় তিনি ইরানেই ছিলেন এবং আলি খামেনির দুই ছেলের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল, যেখানে মোজতবা উপস্থিত ছিলেন। ইলাহির ভাষ্যমতে, মোজতবা কোনো কোনো রাতে রাস্তায় বের হন এবং জনসাধারণের বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছেন, যদিও এসব দাবির সপক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ নেই।
মোজতবার দীর্ঘ অনুপস্থিতি এমন এক সময়ে জল্পনা বাড়াচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, মোজতবা এখনো ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছেন এবং নিরাপত্তার কারণে আড়ালে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। কিছু সূত্রের দাবি, হামলায় তার চেহারা বিকৃত হওয়ার মতো গুরুতর আঘাত লেগেছিল। তিনি দৈনন্দিন প্রশাসনিক দায়িত্বের বড় অংশ কর্মকর্তাদের হাতে ছেড়ে দিলেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিজেই নিচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বক্তব্যেও আগে ভিন্নতা দেখা গিয়েছিল। ২১ জুলাই তিনি জানিয়েছিলেন সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ছে, কিন্তু আগস্টের শুরুতে জানান যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ দিকে তাদের বৈঠকে সামরিক পরিস্থিতি ও অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং দেশটি আসলে কে চালাচ্ছে তা স্পষ্ট নয়।


























