এআই প্রযুক্তিতে দ্রুত ধরা পড়ছে ত্রুটি, সাইবার ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
- আপডেট সময় : ০১:৫৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সফটওয়্যারের নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্তের গতি যেমন বাড়ছে, তেমনি ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর সাইবার হামলার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধীদের এসব ত্রুটি কাজে লাগানোর সময় কমে আসছে বলে সতর্ক করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের আশঙ্কা, এর ফলে সরকারি ওয়েবসাইট ও ইন্টারনেটভিত্তিক সেবায় নতুন করে বিঘ্ন দেখা দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাতজন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকারে এআইয়ের কারণে সফটওয়্যার দুর্বলতা দ্রুত প্রকাশ পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভালনচেকের একটি অপ্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে শনাক্ত হওয়া ডিজিটাল ত্রুটির সংখ্যা দ্বিগুণে পৌঁছেছে।
সাইবার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ প্রিন্স সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক বছর প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বড় ধরনের সাইবার নিরাপত্তা সংকট তৈরি হতে পারে। তিনি জানান, নিত্যব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যাড়ে এখনও এমন অনেক গুরুতর দুর্বলতা রয়েছে, যা সামনে আসেনি। সামনের দিনগুলোতে এআইয়ের মাধ্যমে আরও অনেক গোপন ত্রুটি প্রকাশ পাবে বলে মনে করেন তিনি। এতে সাময়িকভাবে অস্থিরতা বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে সফটওয়্যারকে পুরোপুরি নিরাপদ করার সুযোগ তৈরি হবে।
ইতিমধ্যেই পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার নিরাপত্তাত্রুটিকে কেন্দ্র করে ইউরোপসহ কয়েকটি অঞ্চলের সরকারি সেবামূলক ওয়েবসাইটে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য সাইবার হামলা এড়াতে কিছু ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধও রাখতে হয়েছে। এর পাশাপাশি নোড.জেএস এবং প্লেক্স সফটওয়্যারে নিরাপত্তা ত্রুটি পাওয়ার খবর এসেছে। একই সঙ্গে এআইভিত্তিক বিভিন্ন সেবা ও সফটওয়্যার তৈরির প্ল্যাটফর্মে অনাকাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
পূর্বে কোনো সফটওয়্যারের ত্রুটি খুঁজে বের করা এবং তা দিয়ে হ্যাকিংয়ের পদ্ধতি তৈরি করতে দক্ষ গবেষকদের কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস লেগে যেত। এর ফলে নিরাপত্তা দলগুলো ত্রুটি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সময় পেত। তবে বর্তমানে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল কোড পরীক্ষা করে দুর্বলতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি তা কাজে লাগানোর উপায়ও দ্রুত তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
অবশ্য সব বিশেষজ্ঞ মনে করেন না যে কেবল ত্রুটি বেশি পাওয়ার কারণেই সফল সাইবার হামলার সংখ্যা বেড়ে যাবে। কারণ কিছু ত্রুটি বাস্তবিক অর্থে কাজে লাগানো বেশ জটিল, আবার কোনো ত্রুটি প্রকাশ্যে আসা মানেই অপরাধীরা সঙ্গে সঙ্গে তা ব্যবহার করতে পারবে—এমন নয়। তবে ঝুঁকি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো হামলাকারীদের আগেই দ্রুত দুর্বলতা চিহ্নিত করা, সফটওয়্যার হালনাগাদ করা এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা।

























