ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় অভিযানে ৬৫ হাজারের বেশি আটক, তীব্র আতঙ্কে বাংলাদেশিরা ইরানে হামলার ইঙ্গিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের, ট্রাম্পের দাবি কিছুই জানেন না আজ নাগরিক কবি শামসুর রাহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী এআই প্রযুক্তিতে দ্রুত ধরা পড়ছে ত্রুটি, সাইবার ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের দেড় কোটি পাউন্ডের ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ ঢাকার বাজারে শীতের সবজি ও ডিমে স্বস্তি, বেড়েছে মুরগির দাম ভারতে গরু পাচারের অভিযোগে পুলিশের গুলিতে আহত শত শত মুসলিম চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতার দোকান থেকে লুট হওয়া চিনি উদ্ধার ভোলায় ইউপি নির্বাচন: ভেদুরিয়ায় জনসংযোগ ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি জাকিরের কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে আদাবর ছাত্রদলের নয়েন গ্রেপ্তার

লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের দেড় কোটি পাউন্ডের ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৪৬:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের অভিজাত রিজেন্টস পার্ক এলাকার দেড় কোটি পাউন্ড মূল্যের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি বা হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট। বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী ‘রনি’র এই সম্পদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে চলছে তদন্ত। সেই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালে কেনা এই ফ্ল্যাটটির অর্থ কোথা থেকে এসেছে, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি আনিসুজ্জামান চৌধুরী। যুক্তরাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী আইনের বিধান অনুযায়ী, সম্পদের আয়ের উৎস প্রমাণে ব্যর্থ হলে তা অবৈধ উপায়ে অর্জিত বলে ধরে নেওয়ার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়। লন্ডনের হাইকোর্টে এনসিএ জানায়, ফ্ল্যাটটির সঙ্গে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সন্দেহজনক যোগসূত্র রয়েছে।

আদালতে উপস্থাপিত এনসিএর এক তদন্ত কর্মকর্তার লিখিত সাক্ষ্য অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটির আসল মালিকানা গোপন রাখার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে একটি জটিল মালিকানা কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মাত্র এক পাউন্ডের বিনিময়ে ফ্ল্যাটটির কোম্পানির শেয়ার একজন তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এনসিএর দাবি, আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণ আড়াল করার উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল সম্পদটির মালিকানা পরে তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।

মামলার বিচারে বিচারপতি কারেন স্টেইন তাঁর রায়ে জানান, ফ্ল্যাটটি অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছে বলে দাবি করার পেছনে যথেষ্ট যুক্তিসংগত কারণ ও ভিত্তি রয়েছে। এ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই তিনি ফ্ল্যাটটি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দেন। তবে ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে সম্পত্তির দখল নেওয়ার জন্য বাড়িওয়ালা যাতে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারেন, রায়ে সে সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে।

আদালতে শুনানিকালে আনিসুজ্জামান চৌধুরীর আইনজীবীরা হাইকোর্টের দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেননি। তবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আনিসুজ্জামান চৌধুরী দাবি করেছেন, তিনি কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না এবং মালিকানা আড়াল করার অভিযোগও সত্য নয়। তিনি স্পষ্ট জানান, ভবিষ্যতে এই সম্পদ বাজেয়াপ্তের লক্ষ্যে কোনো দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হলে তিনি আইনি লড়াই চালাবেন। একই সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কোনো মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হলে তার বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের ভূমি নিবন্ধন দপ্তরের নথি সংকলন করে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩ সালে ‘রনি ৪২ লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১ কোটি ২৪ লাখ পাউন্ডে রিজেন্টস পার্কের এই ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘পিএনএন ইউকে প্রপার্টিজ’। এনসিএর আইনজীবীরা জানান, মাত্র এক পাউন্ডে কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের পেছনে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ডিবিএস ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের নতুন করে পুনঃঅর্থায়নের (রিফাইন্যান্সিং) চেষ্টা ছিল। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি এবং ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকটি বর্তমানে ফ্ল্যাটটির দখল নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এই আইনি পদক্ষেপটি বাংলাদেশে সাবেক সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ অনুসন্ধানে যুক্তরাজ্যে পরিচালিত একটি বৃহত্তর তদন্তের অংশ। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে ১৯৯২ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের সম্পদের মালিক হওয়ার তথ্য রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড মূল্যের সম্পদ জব্দের আদেশ পেয়েছিল এনসিএ। একই সঙ্গে সাবেক এই মন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের উৎস ব্যাখ্যা করতে হাইকোর্ট আনএক্সপ্লেইনড ওয়েলথ অর্ডার (ইউডব্লিউও) জারি করেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারে জোরালো তৎপরতা শুরু করে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের দেড় কোটি পাউন্ডের ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ

আপডেট সময় : ০১:৪৬:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের অভিজাত রিজেন্টস পার্ক এলাকার দেড় কোটি পাউন্ড মূল্যের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি বা হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট। বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী ‘রনি’র এই সম্পদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে চলছে তদন্ত। সেই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালে কেনা এই ফ্ল্যাটটির অর্থ কোথা থেকে এসেছে, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি আনিসুজ্জামান চৌধুরী। যুক্তরাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী আইনের বিধান অনুযায়ী, সম্পদের আয়ের উৎস প্রমাণে ব্যর্থ হলে তা অবৈধ উপায়ে অর্জিত বলে ধরে নেওয়ার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়। লন্ডনের হাইকোর্টে এনসিএ জানায়, ফ্ল্যাটটির সঙ্গে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সন্দেহজনক যোগসূত্র রয়েছে।

আদালতে উপস্থাপিত এনসিএর এক তদন্ত কর্মকর্তার লিখিত সাক্ষ্য অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটির আসল মালিকানা গোপন রাখার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে একটি জটিল মালিকানা কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মাত্র এক পাউন্ডের বিনিময়ে ফ্ল্যাটটির কোম্পানির শেয়ার একজন তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এনসিএর দাবি, আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণ আড়াল করার উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল সম্পদটির মালিকানা পরে তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।

মামলার বিচারে বিচারপতি কারেন স্টেইন তাঁর রায়ে জানান, ফ্ল্যাটটি অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছে বলে দাবি করার পেছনে যথেষ্ট যুক্তিসংগত কারণ ও ভিত্তি রয়েছে। এ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই তিনি ফ্ল্যাটটি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দেন। তবে ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে সম্পত্তির দখল নেওয়ার জন্য বাড়িওয়ালা যাতে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারেন, রায়ে সে সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে।

আদালতে শুনানিকালে আনিসুজ্জামান চৌধুরীর আইনজীবীরা হাইকোর্টের দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেননি। তবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আনিসুজ্জামান চৌধুরী দাবি করেছেন, তিনি কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না এবং মালিকানা আড়াল করার অভিযোগও সত্য নয়। তিনি স্পষ্ট জানান, ভবিষ্যতে এই সম্পদ বাজেয়াপ্তের লক্ষ্যে কোনো দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হলে তিনি আইনি লড়াই চালাবেন। একই সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কোনো মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হলে তার বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের ভূমি নিবন্ধন দপ্তরের নথি সংকলন করে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩ সালে ‘রনি ৪২ লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১ কোটি ২৪ লাখ পাউন্ডে রিজেন্টস পার্কের এই ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘পিএনএন ইউকে প্রপার্টিজ’। এনসিএর আইনজীবীরা জানান, মাত্র এক পাউন্ডে কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের পেছনে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ডিবিএস ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের নতুন করে পুনঃঅর্থায়নের (রিফাইন্যান্সিং) চেষ্টা ছিল। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি এবং ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকটি বর্তমানে ফ্ল্যাটটির দখল নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এই আইনি পদক্ষেপটি বাংলাদেশে সাবেক সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ অনুসন্ধানে যুক্তরাজ্যে পরিচালিত একটি বৃহত্তর তদন্তের অংশ। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে ১৯৯২ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের সম্পদের মালিক হওয়ার তথ্য রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড মূল্যের সম্পদ জব্দের আদেশ পেয়েছিল এনসিএ। একই সঙ্গে সাবেক এই মন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের উৎস ব্যাখ্যা করতে হাইকোর্ট আনএক্সপ্লেইনড ওয়েলথ অর্ডার (ইউডব্লিউও) জারি করেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারে জোরালো তৎপরতা শুরু করে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo