চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৪ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫০ জনের মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০১:২৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। জেলা পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩৪ মাসে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ৮৮ জন, ২০২৫ সালে ৪০ জন এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল আরোহীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর থাকলেও দুর্ঘটনা কমাতে তা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জেলায় ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হলেও সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ যানবাহনের চলাচল, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, ট্রাফিক আইন অমান্য করা এবং তদারকির ঘাটতিকে দায়ী করছেন।
জেলার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোর একটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক। এই পথে পণ্যবাহী ট্রাকের পাশাপাশি বাস, মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং নসিমন-ভটভটির মতো ধীরগতির যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। গত ১৮ আগস্ট এই মহাসড়কে দুটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় চারজনসহ এক দিনেই জেলায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ৩০ সেপ্টেম্বর শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট-চৌডালা সড়কে ভটভটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়লে বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত ও আটজন আহত হন। ২১ অক্টোবর একই উপজেলায় গরুবোঝাই ভটভটি উল্টে দুজন গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
চালক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও চরম অব্যবস্থাপনা রয়েছে। বিআরটিএ-এর সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহজামাল হক জানান, জেলায় সরকারি টিটিসি ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ছাড়া অন্য কোনো ড্রাইভিং স্কুলের বৈধ অনুমোদন নেই। অথচ অন্তত ৩০টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান নামমাত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে চালক তৈরি করছে। শফিফুল ইসলাম নামের এক ভুক্তভোগী জানান, ৩০ দিনের প্রশিক্ষণের কথা বলে ভর্তি করা হলেও সাত থেকে ১০ দিনেই কোর্স শেষ করে দেওয়া হয়, যেখানে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি।
এছাড়া গ্রামীণ সড়কে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যাটারিচালিত ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন চালানোর প্রবণতা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মোটরসাইকেল নিয়ে বেপরোয়া চলাচল নিয়েও শিক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও বিআরটিএ নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সাবেক সভাপতি সাদ হোসেন মুজাহিদ ও রহনপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মাহতাব উদ্দিনের মতে, সড়ক পরিবহন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, চালকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করা ছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো কঠিন।





























