চালকের ঘুম কেড়ে নিল ১৪ প্রাণ, নাটোরের মহাসড়কে শোকের মাতম
- আপডেট সময় : ১০:০৯:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

সোমবার ভোর ৪টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও অন্তত ৩০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, যাত্রাবিরতির পর থেকেই বাসটি অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলছিল। চালকের চোখে স্পষ্টত ঘুম ছিল এবং যাত্রীরা তাঁকে বারবার সতর্ক করার পাশাপাশি গাড়ি ধীরে চালানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু চালক সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো অব্যাহত রাখেন, যার চরম মাশুল দিতে হয়েছে ১৪টি প্রাণ দিয়ে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর আহত যাত্রীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসার পরিবর্তে আশপাশের কিছু অসাধু লোক তাঁদের মানিব্যাগ, মোবাইল ফোনসহ নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন আহত যাত্রী ও তাঁদের স্বজনেরা। রক্তাক্ত ও অসহায় মানুষের মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। নিহতদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার জানান, মরদেহগুলো নিরাপদে স্বজনদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং আহতদের চিকিৎসার সার্বিক তদারকি চলছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উদ্ঘাটনে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




























