মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা, পৃথক ঘটনায় নিহত ৪
- আপডেট সময় : ০৮:৪৬:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

ভারতের মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার রাত ও সোমবার সকালের পৃথক দু’টি ঘটনায় কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজধানী ইম্ফলে কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের মৃতদেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে দেয়।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে মেইতেই ও পাঙ্গাল মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় আয়োজিত একটি সংগীতানুষ্ঠানে। সেখানে পাথর নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং পরবর্তীতে ২৪ বছর বয়সী এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ইম্ফল পূর্ব জেলার খামেনলকে। অভিযোগ রয়েছে, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া গ্রামবাসীদের ওপর কাছের পাহাড়ে অবস্থানরত সন্দেহভাজন আদিবাসী সশস্ত্র গোষ্ঠীরা গুলি চালায়। এতে অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকায় কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নোংশুম মায়াই লেইকাই এলাকার অরুবাম রোনিল (৩৫), যাকে কোনো প্রতিবেদনে রোনিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; উয়ুমপোক নোংশুম আওয়াং লেইকাই এলাকার তম্বির ছেলে লাইরেনলাকপাম ইনাওবি (৪৪) এবং উয়ুমপোক মায়াই লেইকাই এলাকার কে শ দেবেনের ছেলে ক্ষেত্রিমায়ুম সুশীল (৩২)। স্থানীয় বিধায়ক থোকচোম লোকেশোর সিং জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীরা ইম্ফল পূর্ব জেলা ও কুকি অধ্যুষিত কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন।
সহিংসতার পর নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল তল্লাশি করে নিরাপদ করেছে। আহতদের ইম্ফলের রাজা মেডিসিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং তাদের দেখতে যান। স্থানীয় বিধায়ক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত 'সিনাই ক্যাম্প' নামে পরিচিত সাসপেনশন অব অপারেশনস (এসওও) শিবিরটি সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিধায়কের দাবি, আসাম রাইফেলস ওই গ্রামবাসীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও তারা হামলার শিকার হয়েছেন। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত উত্তেজনা ও অবিশ্বাস বিদ্যমান রয়েছে, যা এই নতুন হত্যাকাণ্ডের ফলে আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।



























