ঢাকা ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের পরপরই ঘুণ্টিঘরে যৌথ মাদক অভিযান, আটক একাধিক সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি: প্রধানমন্ত্রী মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা, পৃথক ঘটনায় নিহত ৪ সহিংসতা ও লুটপাটের জেরে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি আনভীর স্টেডিয়ামের প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট বিসিবির প্রতিনিধিদল অ্যান কারসনের প্রবন্ধ: পৃষ্ঠারা যখন প্রেম করে নাটোরের বনপাড়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৯, আহত অন্তত ২০ টাইগার শ্রফের ওপর হামলা: তারকাদের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ যশোরে পূজা দেখে ফেরার পথে নসিমন চাপায় দুই শিশুর মৃত্যু সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, টিভিতে দেখে জানল পরিবার

মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা, পৃথক ঘটনায় নিহত ৪

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৬:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার রাত ও সোমবার সকালের পৃথক দু’টি ঘটনায় কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজধানী ইম্ফলে কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের মৃতদেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে দেয়।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে মেইতেই ও পাঙ্গাল মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় আয়োজিত একটি সংগীতানুষ্ঠানে। সেখানে পাথর নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং পরবর্তীতে ২৪ বছর বয়সী এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ইম্ফল পূর্ব জেলার খামেনলকে। অভিযোগ রয়েছে, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া গ্রামবাসীদের ওপর কাছের পাহাড়ে অবস্থানরত সন্দেহভাজন আদিবাসী সশস্ত্র গোষ্ঠীরা গুলি চালায়। এতে অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকায় কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নোংশুম মায়াই লেইকাই এলাকার অরুবাম রোনিল (৩৫), যাকে কোনো প্রতিবেদনে রোনিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; উয়ুমপোক নোংশুম আওয়াং লেইকাই এলাকার তম্বির ছেলে লাইরেনলাকপাম ইনাওবি (৪৪) এবং উয়ুমপোক মায়াই লেইকাই এলাকার কে শ দেবেনের ছেলে ক্ষেত্রিমায়ুম সুশীল (৩২)। স্থানীয় বিধায়ক থোকচোম লোকেশোর সিং জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীরা ইম্ফল পূর্ব জেলা ও কুকি অধ্যুষিত কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন।

সহিংসতার পর নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল তল্লাশি করে নিরাপদ করেছে। আহতদের ইম্ফলের রাজা মেডিসিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং তাদের দেখতে যান। স্থানীয় বিধায়ক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত 'সিনাই ক্যাম্প' নামে পরিচিত সাসপেনশন অব অপারেশনস (এসওও) শিবিরটি সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিধায়কের দাবি, আসাম রাইফেলস ওই গ্রামবাসীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও তারা হামলার শিকার হয়েছেন। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত উত্তেজনা ও অবিশ্বাস বিদ্যমান রয়েছে, যা এই নতুন হত্যাকাণ্ডের ফলে আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা, পৃথক ঘটনায় নিহত ৪

আপডেট সময় : ০৮:৪৬:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার রাত ও সোমবার সকালের পৃথক দু’টি ঘটনায় কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজধানী ইম্ফলে কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের মৃতদেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে দেয়।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে মেইতেই ও পাঙ্গাল মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় আয়োজিত একটি সংগীতানুষ্ঠানে। সেখানে পাথর নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং পরবর্তীতে ২৪ বছর বয়সী এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ইম্ফল পূর্ব জেলার খামেনলকে। অভিযোগ রয়েছে, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া গ্রামবাসীদের ওপর কাছের পাহাড়ে অবস্থানরত সন্দেহভাজন আদিবাসী সশস্ত্র গোষ্ঠীরা গুলি চালায়। এতে অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকায় কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নোংশুম মায়াই লেইকাই এলাকার অরুবাম রোনিল (৩৫), যাকে কোনো প্রতিবেদনে রোনিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; উয়ুমপোক নোংশুম আওয়াং লেইকাই এলাকার তম্বির ছেলে লাইরেনলাকপাম ইনাওবি (৪৪) এবং উয়ুমপোক মায়াই লেইকাই এলাকার কে শ দেবেনের ছেলে ক্ষেত্রিমায়ুম সুশীল (৩২)। স্থানীয় বিধায়ক থোকচোম লোকেশোর সিং জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীরা ইম্ফল পূর্ব জেলা ও কুকি অধ্যুষিত কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন।

সহিংসতার পর নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল তল্লাশি করে নিরাপদ করেছে। আহতদের ইম্ফলের রাজা মেডিসিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং তাদের দেখতে যান। স্থানীয় বিধায়ক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত 'সিনাই ক্যাম্প' নামে পরিচিত সাসপেনশন অব অপারেশনস (এসওও) শিবিরটি সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিধায়কের দাবি, আসাম রাইফেলস ওই গ্রামবাসীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও তারা হামলার শিকার হয়েছেন। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত উত্তেজনা ও অবিশ্বাস বিদ্যমান রয়েছে, যা এই নতুন হত্যাকাণ্ডের ফলে আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin