ঢাকা ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের পরপরই ঘুণ্টিঘরে যৌথ মাদক অভিযান, আটক একাধিক সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি: প্রধানমন্ত্রী মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা, পৃথক ঘটনায় নিহত ৪ সহিংসতা ও লুটপাটের জেরে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি আনভীর স্টেডিয়ামের প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট বিসিবির প্রতিনিধিদল অ্যান কারসনের প্রবন্ধ: পৃষ্ঠারা যখন প্রেম করে নাটোরের বনপাড়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৯, আহত অন্তত ২০ টাইগার শ্রফের ওপর হামলা: তারকাদের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ যশোরে পূজা দেখে ফেরার পথে নসিমন চাপায় দুই শিশুর মৃত্যু সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, টিভিতে দেখে জানল পরিবার

সহিংসতা ও লুটপাটের জেরে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৩১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফ্রান্সে ভয়াবহ সহিংসতা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির কয়েকটি শহরে আংশিক কারফিউ জারি করা হয়েছে। সোমবার রাতে প্যারিস, লিওঁ ও নিসসহ বেশ কিছু শহরে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনকে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার এই নির্দেশ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু সোমবার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা প্রদান করেন। সরকার বর্তমানে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই সড়ক সহিংসতার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধের উপায় খুঁজছে।

প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এবং লে আল শপিং এলাকার আশপাশের সড়কে স্থানীয় সময় সোমবার রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বহাল রাখা হয়। এছাড়া সোমবার রাত ৮টা থেকে পুরো শহরে বিক্ষোভ ও জমায়েত নিষিদ্ধ করে পুলিশ। লিওঁ, নিস ও কুলেন শহরেও সোমবার রাতে কারফিউ জারি করা হয়, যার মধ্যে কয়েকটি এলাকায় শুধু অপ্রাপ্তবয়স্কদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সের লিল শহর ও এর আশপাশের তিনটি এলাকায় সোমবার ও মঙ্গলবার রাতে এই কারফিউ কার্যকর ছিল।

প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু পুরো প্যারিসে কারফিউ জারির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে আংশিক কারফিউ বেশি কার্যকর। তবে জনশৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শনিবারের বিক্ষোভে দুই হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের গ্রেনেডের আঘাতে এক বিক্ষোভকারীর হাত উড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নেন। শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নয়ন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জনসেবার মান কমে যাওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ও সাধারণ বাসিন্দারা এতে যোগ দেন। দাঙ্গাকারীরা পৌরসভা ভবন ও পুলিশ স্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা চালায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেছেন যে, শনিবার কয়েকটি বড় শহরে পুলিশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল। শনিবার সারা দেশে ৬০ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।

বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ জানান, সপ্তাহজুড়ে দুই হাজার ৩৩০ জনের বেশি ব্যক্তিকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, যার ৭০ শতাংশই প্রাপ্তবয়স্ক। রোববারও লুটপাট অব্যাহত ছিল; শুধুমাত্র প্যারিসেই ৩০টি দোকানে হামলা হয়েছে। সহিংসতার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তা নাকচ করে দিয়েছেন। এলিসি প্রাসাদ জানিয়েছে, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নুনেজকে দায়িত্বে থাকতে বলা হয়েছে এবং লুটপাটকারীদের মোকাবিলায় নতুন পদ্ধতি নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আন্দোলনের পেছনে ইয়েলো ভেস্ট সদস্যদের ভূমিকা রয়েছে এবং আগামী শনিবার নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের বড় শহরগুলোর মেয়ররা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। নুনেজের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার সারা দেশে ৬০ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। রোববার প্যারিসে এবং ওই রাত পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই সহিংস বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিল ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কয়েক সপ্তাহ ধরে সহিংস আন্দোলন চালিয়েছিল এ আন্দোলনের সদস্যরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

সহিংসতা ও লুটপাটের জেরে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

আপডেট সময় : ০৮:৩১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে ভয়াবহ সহিংসতা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির কয়েকটি শহরে আংশিক কারফিউ জারি করা হয়েছে। সোমবার রাতে প্যারিস, লিওঁ ও নিসসহ বেশ কিছু শহরে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনকে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার এই নির্দেশ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু সোমবার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা প্রদান করেন। সরকার বর্তমানে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই সড়ক সহিংসতার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধের উপায় খুঁজছে।

প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এবং লে আল শপিং এলাকার আশপাশের সড়কে স্থানীয় সময় সোমবার রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বহাল রাখা হয়। এছাড়া সোমবার রাত ৮টা থেকে পুরো শহরে বিক্ষোভ ও জমায়েত নিষিদ্ধ করে পুলিশ। লিওঁ, নিস ও কুলেন শহরেও সোমবার রাতে কারফিউ জারি করা হয়, যার মধ্যে কয়েকটি এলাকায় শুধু অপ্রাপ্তবয়স্কদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সের লিল শহর ও এর আশপাশের তিনটি এলাকায় সোমবার ও মঙ্গলবার রাতে এই কারফিউ কার্যকর ছিল।

প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু পুরো প্যারিসে কারফিউ জারির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে আংশিক কারফিউ বেশি কার্যকর। তবে জনশৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শনিবারের বিক্ষোভে দুই হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের গ্রেনেডের আঘাতে এক বিক্ষোভকারীর হাত উড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নেন। শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নয়ন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জনসেবার মান কমে যাওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ও সাধারণ বাসিন্দারা এতে যোগ দেন। দাঙ্গাকারীরা পৌরসভা ভবন ও পুলিশ স্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা চালায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেছেন যে, শনিবার কয়েকটি বড় শহরে পুলিশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল। শনিবার সারা দেশে ৬০ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।

বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ জানান, সপ্তাহজুড়ে দুই হাজার ৩৩০ জনের বেশি ব্যক্তিকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, যার ৭০ শতাংশই প্রাপ্তবয়স্ক। রোববারও লুটপাট অব্যাহত ছিল; শুধুমাত্র প্যারিসেই ৩০টি দোকানে হামলা হয়েছে। সহিংসতার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তা নাকচ করে দিয়েছেন। এলিসি প্রাসাদ জানিয়েছে, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নুনেজকে দায়িত্বে থাকতে বলা হয়েছে এবং লুটপাটকারীদের মোকাবিলায় নতুন পদ্ধতি নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আন্দোলনের পেছনে ইয়েলো ভেস্ট সদস্যদের ভূমিকা রয়েছে এবং আগামী শনিবার নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের বড় শহরগুলোর মেয়ররা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। নুনেজের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার সারা দেশে ৬০ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। রোববার প্যারিসে এবং ওই রাত পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই সহিংস বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিল ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কয়েক সপ্তাহ ধরে সহিংস আন্দোলন চালিয়েছিল এ আন্দোলনের সদস্যরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh