ঢাকা ০৮:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাটোরের বনপাড়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৯, আহত অন্তত ২০ টাইগার শ্রফের ওপর হামলা: তারকাদের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ যশোরে পূজা দেখে ফেরার পথে নসিমন চাপায় দুই শিশুর মৃত্যু সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, টিভিতে দেখে জানল পরিবার ডিগ্রিহীন ডা. নুরুল হককে আইসিএমএইচের শিশু বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা পাঠাতে মাউশির জরুরি নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা পাঠাতে জরুরি নির্দেশনা দিল মাউশি প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর উপলক্ষে সাঈদ আল নোমানের আনন্দ মিছিল গান গাওয়ায় মামলা ও বাবার সঙ্গে মারধরের অতীত স্মৃতি শোনালেন মনির খান ভূঞাপুরের অলোয়ায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এমপি আবদুস সালাম পিন্টু

সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, টিভিতে দেখে জানল পরিবার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের আবদুল বাছিরের ছেলে নজরুল ইসলাম (২৫)-এর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে গত ১৪ই অক্টোবর। চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় নজরুল ২০২২ সালের ১০ই নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। মাত্র ছয় মাসের মাথায় পরিবারের লোকজন জানতে পারে সে জেলে আছে, তবে কী অপরাধে তাকে আটক করা হয়েছিল তা পরিবার কখনোই জানতে পারেনি। এমনকি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে, সেটিও তাদের ভাবনার বাইরে ছিল।

নজরুলের মা রহিমা বেগম জানান, জেলে থাকাকালীন নজরুল মাঝেমধ্যে ফোন দিত। গত রোববারও (১১ই অক্টোবর) সে মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেছিল। রহিমা বেগম বলেন, 'সংসারের হাল ধরার জন্যই বিদেশ গেছিল। গত রোববারও ফোন দিয়েছিল, কিন্তু এই ফোন যে আমার ছেলের শেষ ফোন তা বুঝতে পারিনি।' নজরুলের বাবা আবদুল বাছির জানান, বিদেশ যাওয়ার পর প্রথম ছয় মাস ডিউটি করলেও এরপর থেকে আর কোনো খবর ছিল না। পরে এক মাস পর জানতে পারেন সে জেলে আছে। তিনি বলেন, 'প্রশাসন থেকে এ পর্যন্ত আমি কোনো খবর পাইনি। ৩ বছরের মতো হইয়া গেছে হঠাৎ করে টিভির মধ্যে খবর দেখি।'

নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর টিভি থেকে শোনার পর তার ফুপু আবেদা বেগম ভাইয়ের কাছ থেকে বিষয়টি শুনে তাৎক্ষণিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ছোটবেলা থেকেই নজরুলকে আদর-যত্নে বড় করেছিলেন তিনি। বর্তমানে নজরুলের বাবা-মা অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে, মসজিদ কম্পাউন্ডে এক বাংলাদেশি তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে গত ১৪ই অক্টোবর নজরুলের শিরশ্ছেদ করা হয়। একই অভিযোগে সিতি আক্তার নামে ওই তরুণীরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তবে তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসী ও নজরুলের সহপাঠীদের অভিযোগ, বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার কারণে আইনি সহায়তা নিশ্চিত না করে তড়িঘড়ি করে এই দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। নজরুলের সহপাঠী মো. মাহফুজ দাবি করেন, নজরুল ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিল এবং ভাষাগত জটিলতার কারণে সে নির্দোষ তা প্রমাণ করতে পারেনি। প্রতিবেশী ও সৌদি প্রবাসী মো. আনোয়ার বলেন, 'যদি আমেরিকা বা ভারতীয় অথবা অন্য কোনো শক্তিশালী দেশের নাগরিক হতো— তাহলে হয়তো মৃত্যুদণ্ড দেয়ার আগে বহুবার চিন্তা করতো।' মাওলানা নিয়াজুল করিমসহ স্থানীয়রা বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিন বছরের বেশি সময় ধরে সে ঝামেলায় থাকলেও পরিবারের সঙ্গে দূতাবাসের কোনো যোগাযোগ ছিল না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, 'যে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে তাদের একজনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, এটি জানতে পেরেছি। তবে এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো আবেদন করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী লাশ দেশে আসলে বাড়িতে আনার ব্যাপারে প্রশাসন সহযোগিতা করবে।'

নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর তার পরিবার জানতে পারে টিভি থেকে। ভাইয়ের কাছ থেকে এই খবর শুনে হার্ট অ্যাটাক করে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ফুপু আবেদা বেগম। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান নজরুলের বাবা ও মা। গতকাল দুপুরে নজরুলের বাড়িতে গিয়ে তার পিতাকে শয্যাশায়ী দেখা গেছে। পাশের বাড়িতে ৫ দিনের মাথায় চলছে মৃত ফ

নজরুলের পিতা আবদুল বাছির বলেন, ‘প্রশাসন থেকে এ পর্যন্ত আমি কোনো খবর পাইনি। বিদেশ পাঠানোর পর ৬ মাস ডিউটি করছে সুন্দরভাবেই। ৬ মাস পর আর কোনো খবর নেই। এরপর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ১ মাস পর জানাইছে সে জেলে আছে। কী দোষে জেলে গেছে কইতে পারে না। ৩ বছরের মতো হইয়া গেছে হঠাৎ করে টিভির মধ্যে খবর দেখি। গত রোববার ফোনে কথা হয়েছিল। হে ন

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, টিভিতে দেখে জানল পরিবার

আপডেট সময় : ০৭:০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের আবদুল বাছিরের ছেলে নজরুল ইসলাম (২৫)-এর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে গত ১৪ই অক্টোবর। চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় নজরুল ২০২২ সালের ১০ই নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। মাত্র ছয় মাসের মাথায় পরিবারের লোকজন জানতে পারে সে জেলে আছে, তবে কী অপরাধে তাকে আটক করা হয়েছিল তা পরিবার কখনোই জানতে পারেনি। এমনকি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে, সেটিও তাদের ভাবনার বাইরে ছিল।

নজরুলের মা রহিমা বেগম জানান, জেলে থাকাকালীন নজরুল মাঝেমধ্যে ফোন দিত। গত রোববারও (১১ই অক্টোবর) সে মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেছিল। রহিমা বেগম বলেন, 'সংসারের হাল ধরার জন্যই বিদেশ গেছিল। গত রোববারও ফোন দিয়েছিল, কিন্তু এই ফোন যে আমার ছেলের শেষ ফোন তা বুঝতে পারিনি।' নজরুলের বাবা আবদুল বাছির জানান, বিদেশ যাওয়ার পর প্রথম ছয় মাস ডিউটি করলেও এরপর থেকে আর কোনো খবর ছিল না। পরে এক মাস পর জানতে পারেন সে জেলে আছে। তিনি বলেন, 'প্রশাসন থেকে এ পর্যন্ত আমি কোনো খবর পাইনি। ৩ বছরের মতো হইয়া গেছে হঠাৎ করে টিভির মধ্যে খবর দেখি।'

নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর টিভি থেকে শোনার পর তার ফুপু আবেদা বেগম ভাইয়ের কাছ থেকে বিষয়টি শুনে তাৎক্ষণিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ছোটবেলা থেকেই নজরুলকে আদর-যত্নে বড় করেছিলেন তিনি। বর্তমানে নজরুলের বাবা-মা অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে, মসজিদ কম্পাউন্ডে এক বাংলাদেশি তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে গত ১৪ই অক্টোবর নজরুলের শিরশ্ছেদ করা হয়। একই অভিযোগে সিতি আক্তার নামে ওই তরুণীরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তবে তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসী ও নজরুলের সহপাঠীদের অভিযোগ, বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার কারণে আইনি সহায়তা নিশ্চিত না করে তড়িঘড়ি করে এই দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। নজরুলের সহপাঠী মো. মাহফুজ দাবি করেন, নজরুল ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিল এবং ভাষাগত জটিলতার কারণে সে নির্দোষ তা প্রমাণ করতে পারেনি। প্রতিবেশী ও সৌদি প্রবাসী মো. আনোয়ার বলেন, 'যদি আমেরিকা বা ভারতীয় অথবা অন্য কোনো শক্তিশালী দেশের নাগরিক হতো— তাহলে হয়তো মৃত্যুদণ্ড দেয়ার আগে বহুবার চিন্তা করতো।' মাওলানা নিয়াজুল করিমসহ স্থানীয়রা বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিন বছরের বেশি সময় ধরে সে ঝামেলায় থাকলেও পরিবারের সঙ্গে দূতাবাসের কোনো যোগাযোগ ছিল না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, 'যে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে তাদের একজনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, এটি জানতে পেরেছি। তবে এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো আবেদন করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী লাশ দেশে আসলে বাড়িতে আনার ব্যাপারে প্রশাসন সহযোগিতা করবে।'

নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর তার পরিবার জানতে পারে টিভি থেকে। ভাইয়ের কাছ থেকে এই খবর শুনে হার্ট অ্যাটাক করে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ফুপু আবেদা বেগম। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান নজরুলের বাবা ও মা। গতকাল দুপুরে নজরুলের বাড়িতে গিয়ে তার পিতাকে শয্যাশায়ী দেখা গেছে। পাশের বাড়িতে ৫ দিনের মাথায় চলছে মৃত ফ

নজরুলের পিতা আবদুল বাছির বলেন, ‘প্রশাসন থেকে এ পর্যন্ত আমি কোনো খবর পাইনি। বিদেশ পাঠানোর পর ৬ মাস ডিউটি করছে সুন্দরভাবেই। ৬ মাস পর আর কোনো খবর নেই। এরপর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ১ মাস পর জানাইছে সে জেলে আছে। কী দোষে জেলে গেছে কইতে পারে না। ৩ বছরের মতো হইয়া গেছে হঠাৎ করে টিভির মধ্যে খবর দেখি। গত রোববার ফোনে কথা হয়েছিল। হে ন

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin