ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’ অভিযোগ আনল ফিফা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো দুই ঈদ মনপুরায় ১০০ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা সংসার সাজানোর আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল রায় জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ধ্বংসস্তূপের মাঝেও টিকে আছে গাজার মানুষের জীবন ও স্বপ্ন উগান্ডায় নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হচ্ছেন সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিদি

ফারাক্কার প্রভাবে ভরাট হচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-খাল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:০৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ফারাক্কার প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও খালগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, ওপর থেকে পর্যাপ্ত মিষ্টি পানির প্রবাহ না থাকায় নিচ থেকে আসা পলি জমে প্রায় ৫৪টি নদী এবং কয়েকশ খাল-বিল ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে এ অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিমাণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

শনিবার বেলা ১১টায় খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্কে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও বিকাশ লিমিটেডের যৌথ বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সুন্দরবন ও এ অঞ্চলের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় ভারতের সঙ্গে মিষ্টি পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কেবল কূটনৈতিক আলোচনা বা বক্তব্যের মাধ্যমে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা করেছেন বলেও জানান।

প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ওপর থেকে মিষ্টি পানি না এলে সুন্দরবনের সুন্দরী গাছসহ বিভিন্ন উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে সুন্দরবন রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ সময় তিনি সুন্দরবনের পাশে অবস্থিত লাল শ্রেণির শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গাছ লাগানো ও পরিবেশ রক্ষার সরকারি উদ্যোগ সম্পর্কে শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গাছ লাগানো সম্পন্ন হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় রোপণের জন্য আরও ২ কোটি কেওড়ার চারা ও বীজ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, নির্বিচারে গাছ না লাগিয়ে পাহাড়, সমতল, উপকূল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা পরিকল্পনা অনুযায়ী সুষম বৃক্ষায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া বজ্রপাত মোকাবিলায় যশোর, মাগুরা, নড়াইল, খুলনা ও সাতক্ষীরায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার তালগাছ লাগানো হয়েছে।

সরকারের অন্যান্য পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে খাল খনন, সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বৈদ্যুতিক বাস চালু করা। প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী রাজিব আহমেদ। এছাড়া খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, বিভাগীয় বন সংরক্ষক মো. ইমরান আহমেদসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ফারাক্কার প্রভাবে ভরাট হচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-খাল

আপডেট সময় : ০৪:০৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফারাক্কার প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও খালগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, ওপর থেকে পর্যাপ্ত মিষ্টি পানির প্রবাহ না থাকায় নিচ থেকে আসা পলি জমে প্রায় ৫৪টি নদী এবং কয়েকশ খাল-বিল ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে এ অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিমাণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

শনিবার বেলা ১১টায় খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্কে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও বিকাশ লিমিটেডের যৌথ বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সুন্দরবন ও এ অঞ্চলের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় ভারতের সঙ্গে মিষ্টি পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কেবল কূটনৈতিক আলোচনা বা বক্তব্যের মাধ্যমে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা করেছেন বলেও জানান।

প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ওপর থেকে মিষ্টি পানি না এলে সুন্দরবনের সুন্দরী গাছসহ বিভিন্ন উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে সুন্দরবন রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ সময় তিনি সুন্দরবনের পাশে অবস্থিত লাল শ্রেণির শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গাছ লাগানো ও পরিবেশ রক্ষার সরকারি উদ্যোগ সম্পর্কে শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গাছ লাগানো সম্পন্ন হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় রোপণের জন্য আরও ২ কোটি কেওড়ার চারা ও বীজ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, নির্বিচারে গাছ না লাগিয়ে পাহাড়, সমতল, উপকূল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা পরিকল্পনা অনুযায়ী সুষম বৃক্ষায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া বজ্রপাত মোকাবিলায় যশোর, মাগুরা, নড়াইল, খুলনা ও সাতক্ষীরায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার তালগাছ লাগানো হয়েছে।

সরকারের অন্যান্য পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে খাল খনন, সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বৈদ্যুতিক বাস চালু করা। প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী রাজিব আহমেদ। এছাড়া খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, বিভাগীয় বন সংরক্ষক মো. ইমরান আহমেদসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh