শ্যামনগরে পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত হবেন মরিয়ম
- আপডেট সময় : ১১:৪৭:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্বজনরা। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সরদারপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফনের জন্য কবর খোঁড়ার কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মরিয়মের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছামাত্রই গভীর রাতে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন তার পরিবার।
মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি পদ্মা সেতু পার হয়ে খুলনার কয়রা হয়ে গাবুরার দিকে আসছে। সেখান থেকে কাশিরহাটখোলা খেয়াঘাট হয়ে ট্রলারে করে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতে রাত ১২টা বেজে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন মরিয়মের চাচি মুন্নী খাতুন। তিনি জানান, অ্যাম্বুলেন্সে আসা স্বজনদের জন্য রাতের খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মুন্নী খাতুনের স্বামী অর্থাৎ মরিয়মের চাচা মিলন সরদার প্রবাসে থাকায় দাফনের সমস্ত প্রস্তুতি তিনিই দেখাশোনা করছেন।
সোমবার বিকেলে সরদারপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর থেকে মরিয়ম তার পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করত। স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন সরদার জানান, মরিয়মের অকাল মৃত্যু এলাকাবাসী মেনে নিতে পারছে না। ৮২ বছর বয়সী সাবেক গ্রাম পুলিশ গোলাম রহমান জানান, মরিয়ম ঢাকায় থেকে লেখাপড়া করত এবং এসএসসি পরীক্ষাও দিয়েছিল। এদিকে, নাতনির মৃত্যুর খবরে মরিয়মের দাদা ইউনুস সরদার শোকে পাথর হয়ে বাড়ির এক কোণে নিথর বসে আছেন।
উল্লেখ্য, গত রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মরিয়মের স্বামী ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে, তবে ওবায়দুর রহমান পলাতক রয়েছেন।



























