পদ্মবিলে ঘুরতে গিয়ে মাঝিদের হামলায় পর্যটক রক্তাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি
- আপডেট সময় : ০৯:৪৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার মুশুরিয়া পদ্মবিলে ঘুরতে গিয়েছিলেন দুই পর্যটক। কিন্তু সন্ধ্যার পর সেই আনন্দময় ভ্রমণ রূপ নেয় রক্তপাতে। অভিযোগ উঠেছে, বিলের জহরেরকান্দি জয়ধরবাড়ী ঘাটের কয়েকজন মাঝি প্রথমে পর্যটকদের মোটরসাইকেলের তেলের লাইন ও পিকআপের তার ছিঁড়ে ফেলেন। এর প্রতিবাদ করলে সুব্রত বিশ্বাস (২৫) নামে এক পর্যটককে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। আহত সুব্রত বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের সুনীল বিশ্বাসের ছেলে।
সুব্রতর সঙ্গে থাকা পর্যটক সত্যজিত বিশ্বাস জানান, ঘাটে পৌঁছানোর পর মাঝিদের সঙ্গে ভাড়ার বিষয় নিয়ে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাঝিরা মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ নষ্ট করে ফেললে বিষয়টি নিয়ে আবারও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। তখনই মাঝিরা সুব্রতর ওপর চড়াও হন। প্রত্যক্ষদর্শী পাভেল সমদ্দার, বাদল বাড়ৈ, সোনাতন বৈদ্য ও সজিব বৈরাগী জানান, ভ্যানযোগে যাওয়ার সময় তারা এক যুবককে মারধরের দৃশ্য দেখেন এবং পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান।
হামলার ঘটনায় বিদ্যুৎ জয়ধর, অনিক জয়ধর ও হৃদয় জয়ধরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে বিদ্যুৎ বঙ্কিম জয়ধরের ছেলে, অনিক অরুণ জয়ধরের ছেলে এবং হৃদয় রমেন জয়ধরের ছেলে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ঘাটের মাঝিদের বিরুদ্ধে পর্যটকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হয়রানির দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বৈদ্যবাড়ী ঘাটের আদলে গেট তৈরি করে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মাধ্যমে তারা নিয়মিত বিবাদে জড়ান।
এ বিষয়ে ভাঙ্গারহাট পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক সিরাজ হোসেন জানান, ঘটনাটি লোকমুখে শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা বলছেন, পর্যটনকেন্দ্রে এমন আতঙ্কজনক পরিস্থিতি পর্যটন পরিবেশের জন্য নেতিবাচক। সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।



























