গৌরীপুরে শতবর্ষী আর কে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন রক্ষায় মতবিনিময়
- আপডেট সময় : ০১:০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী রাজেন্দ্র কিশোর (আর কে) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষী পুরোনো মূল ভবনটি সংস্কার, সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের মিলনায়তনে ‘ঐতিহ্য হারিয়ে গেলে ফিরিয়ে আনা যায় না’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এই সভার আয়োজন করেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রুবিয়া খাতুন নীপার সভাপতিত্বে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ বদরুল আলমের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বেগ ফারুক আহাম্মেদ, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাবেক ভিপি মো. শামছুল হক শামসু এবং সহসভাপতি মাহফুজুর রহমান মাহফুজ।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন গৌরীপুর পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব রমজান হোসেন খান জুয়েল, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল, দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকার গৌরীপুর প্রতিনিধি আরিফ আহম্মেদ, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান মনি, তৌহিদুল আমীন তুহিন ও জুলাই যোদ্ধা বাহালুল মুন্সি প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, আর কে স্কুল শুধু একটি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি গৌরীপুরের শত বছরের ইতিহাস, শিক্ষা-সংস্কৃতি এবং বহু মানুষের শৈশব-কৈশোরের স্মৃতির প্রতীক। দীর্ঘ সময় ধরে এই ভবনের শ্রেণিকক্ষ ও বারান্দায় পড়াশোনা করেছেন কয়েক প্রজন্মের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্মৃতিবিজড়িত এই ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা অভিযোগ করেন, সন্ধ্যার পর ভবনটি অরক্ষিত থাকায় সেখানে বখাটে ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ে এবং জুয়াসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে। ইতোমধ্যে ভবনের কিছু পুরোনো দরজা-জানালা ও গ্রিল চুরি হয়ে গেছে বলেও সভায় জানানো হয়।
এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি রক্ষায় ভবনটির বর্তমান অবস্থা কারিগরিভাবে পরীক্ষা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, ভবনের মূল স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখেই সংস্কার কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি সংরক্ষণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।




























