সাতক্ষীরায় পুকুরে ২৮০ মৌ-বাক্স ফেলে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি, অভিযোগ দায়ের
- আপডেট সময় : ১১:২৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় এক মৌচাষির ২৮০টি মৌ-বাক্স পুকুরে ফেলে দিয়ে বিপুল পরিমাণ মৌমাছি, মৌচাক ও মধু নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আনুমানিক ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী মৌচাষি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি কলারোয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার হরিণনগর গ্রামের বাসিন্দা মৌচাষি জাহাঙ্গীর আলম গত ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে মাগুরা জেলা থেকে রাণি মৌমাছি নিয়ে মধু সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কলারোয়া উপজেলার মীরডাঙ্গা গ্রামে আসেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি সেখানে পৌঁছান এবং ইমামুল ইসলামের আমবাগানে একটি অস্থায়ী মৌ-খামার স্থাপন করেন। সেখানে তিনি ২৮০টি মৌ-বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহের জন্য নিবিড় পরিচর্যা ও পাহারা দিচ্ছিলেন।
গত ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার রাত আনুমানিক ১টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমবাগানে থাকা মৌমাছির ২৮০টি বাক্স পাশের দুটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। সকালে উঠে খামার মালিক জাহাঙ্গীর আলম দেখতে পান, পুকুরের পানিতে ডুবে রাণি মাছিসহ সব মৌমাছি মারা গেছে এবং বাক্সগুলো সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মৌচাষি জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে জানান, “শুক্রবার সারাদিন আমি আম বাগানে যখন মৌ বাক্সগুলো স্থাপন করলাম তখন কেউ আমাকে কিছু বলেনি। তারপর শনিবার সকালে উঠে দেখি আমার সব মৌবাক্স পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মৌ-বাক্সগুলো শুধু পানিতে ফেলে দেওয়া হয়নি, এর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও জীবিকার পথও ধ্বংস করা হয়েছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।” তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বাক্সে ৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের মৌমাছি ছিল, সে হিসেবে ২৮০টি বাক্সে থাকা মৌমাছির বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া গত কয়েক দিনে খাদ্য ও পরিচর্যা বাবদ আরও প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, “শত্রুতা করে আমার এই সব শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আমি একবারে নিঃস্ব হয়ে রাস্তায় বসে গেছি।”
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় জমি মালিক ইমামুল ইসলাম, মহিদুল ইসলাম ও ইমরান হোসেনসহ এলাকার উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা এ ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
বাংলাদেশ বিকিপার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এবাদুল্লাহ আফজাল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানায় বড়ুই বাগানে মৌখামারের সব মৌবাক্স পুকুরে ফেলে যে দূর্ঘটনা ঘটিছে আমি তার প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানাই। দুষ্কৃতকারী যেই হোক না কেন তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।”
এ বিষয়ে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান রিমু মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “ঘটনাটি ঘটেছে ১১ তারিখ রাতে। ভুক্তভোগী থানায় ১২ তারিখ এসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে গেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”



























